বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার প্রধান ডাকঘর ভবনটি বর্তমানে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৮৫ সালে নির্মিত এ ভবনটি স¤পূর্ণভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় ভবনের ছাদ থেকে প্রতিনিয়তই পলেস্তার খসে পড়ছে। আবার অনেক জায়গায় ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে। বর্ষার মৌসুমে ছাদ ও দেওয়াল দিয়ে পানি চুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এতে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায় এবং অফিসের টেবিলে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এই ভবনের ভেতরে চলতে থাকে ডাক বিভাগের নানা দাপ্তরিক কাজকর্ম।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাহ্যিকভাবে ভবনটি রঙিন রঙের মোড়কে খানিকটা পরিপাটি মনে হলেও, ভেতরের অবস্থা দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় যে এটি কোনো ভাবেই ব্যবহারের উপযোগ নয়। প্রধান সড়কের স্থান থেকে ডাকঘর ভবনটি নিচু স্থানে অবস্থিত হওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতে ভবনের সামনের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। ফলে ডাকঘরে প্রবেশ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ভেতরে ঢুকলে অস্বাস্থ স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এবং ছাদ থেকে চুইয়ে পড়া পানির কারণে সেবা গ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
প্রতিদিন বহু মানুষ সরকানি বেসরকারি কাজের জন্য এই ডাকঘরে আসে চাকরির প্রবেশপত্র, ব্যাংক ও বীমা লেনদেন, রেভিনিউ স্ট্যা¤প ও গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র এখান থেকেই আদান-প্রদান করা হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে যদিও ডাক বিভাগের চাহিদা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে। তবে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিপত্র চালাচালির জন্য এটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সংস্কার নয়, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অযোগ্য এই ভবনটি ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা স¤পন্ন একটি নতুন ডাকঘর ভবন নির্মাণই হতে পারে স্থায়ী সমাধান। বর্তমান অবকাঠামোর মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানো কেবল দুর্ভোগই নয়, মারাত্মক প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে।
ডাকঘরে সেবা নিতে আসা আজিজার রহমান বলেন, বর্ষার সময় হাঁটু পানির মধ্যদিয়ে ঢুকে আবার ভেতরের ভেজা, দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক সেবাগ্রহিতা মাজিদুর রহমান। তিনি বলেন, ভবনের ছাদের বেশির ভাগ জায়গা খসে পড়েছে, রড বের হয়ে আছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই তিনি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানান।
কালাই পোস্ট মাস্টার সুনীল চন্দ্র বলেন, প্রতিদিন এখান দিয়ে বহু সরকারি ও বেসরকারি কাগজপত্র, পার্সেল, বীমার অর্থ লেনদেনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলে। বিভিন্ন সময় ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে ভবন পরিদর্শন করলেও আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলার পোস্ট অফিস পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন খুব শিগগিরই এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।