বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নে সাঁতার পূর্বপাড়া গ্রামের মাগুড়া গাড়ি নামক স্থানে একটি খাস পুকুরে ব্রিজ না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এবং বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় মাঝে মধ্যেই ছোট ও বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, দুই বিঘা আয়তনের একটিসরকারি খাস পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। এবং মাছ চাষের ফলে গ্রামবাসীর চলাচলের এক মাত্র রাস্তাটি ওই পুকুরে গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও মিলছে না কোনো সমাধান। তখন গ্রামবাসী নিজ উদ্যাগে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করে চলাচলের জন্য কিছু অংশ কাঠ আর কিছু অংশ বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেন। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে ২০ বছর ধরে চলাচল করছেন।
এ উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের সাঁতার গ্রামের গোলাম ছারোয়ার, ইউসুফ, আশরাফ, মতিয়ার, বায়জিদ, খোরশেদ জানান, জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ ভোগান্তিতে শতাধিক পরিবার সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন তাদের এই পথে রাস্তা পারাপার করতে হয় যা তাদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙা নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগী সহ কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পূর্ণ নিয়ে যাতায়াত করে ওই এলাকার জনসাধারণ।
ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন বলেন, এই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায় শিশু তহুড়া। এলাকাবাসীর নজরে পড়ায় মেয়েটি প্রাণে বেঁচে যায়। ফলে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। সাইফুন নেছা, শিফা, ফেরদৌস হোসেনসহ অনেকে অনুরূপ মন্তব্য করেন। আরেক ভুক্তভোগী আবুল খায়ের বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যান না তিনি। গ্রামের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বাঁশের সাঁকোর কথা মনে পড়ে, আর তখনই ভয় কাজ করে তার। কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত পরির্দশন শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।