সর্বশেষ সংবাদ :

শিবগঞ্জ সীমান্তপথে আবারো ২০ জনকে পুশইন

স্টাফ রির্পোটার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে আবারো বিশ জনকি পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। মুষলধারে যখন বৃষ্টি হচ্ছিল এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা পুশ ইন করে।
বুধবার ১৮ জুন ভোর পৌণে ৫ টার দিকে ভারতের ৭১ ব্যাটালিয়নের সভাপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য্যরা বাংলাদেশের শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্তের ৪/৫-১ এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে ওদের পুশইন করে। এর আগে ভারতীয় পুলিশ ভারতের দিল্লীর হরিয়ান এলাকা থেকে ইটভাটায় কাজ করার সময় তাদেরকে আটক করে মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে। বাংলাদেশের ঠেলে দেওয়াদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৭ জন মহিলা এবং ১০ জন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন রংপুরের এবং বাকিরা কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৫৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু তাদের হেফাজতে থাকা ২০ জনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ঠেলে দেয়া এ ২০ জন প্রায় দশ বছর আগে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর হরিয়ান এলাকায় একটি ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে তারা কাজ করছিল। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্তের ৪/৫-১ এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি হবার সময় ভোর পৌণে ৫ টার দিকে ঠেলে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির একটি টহলদার সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের হেফাজতে নেই এবং স্থানীয় ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করেন এবং তাদের দেয়া তথ্য যাচাই করে। তিনি আরও জানান, তাদের হেফাজতে থাকা ওই ২০ জনকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাংলাদেশী বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, ভোরের কোন এক সময় বৃষ্টির মধ্যে ভেজা অবস্থায় বিএসএফ ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়, যা অমানবিক।
মাসুদপুর এলাকার অপর বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, তারা ১০ বছর ধরে ভারতে বাস করছিল। অথচ পরিবার সহ এক কাপড়ে বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। ছোট শিশু ও মহিলা সহ সবাই পানিতে ভিজে কাঁপছিল। এটা খুবই অমানবিক বিষয়।
এদিকে পুশইন হওয়া মহিলা রোজিনা বেগম জানান, জোর করে ধরে কয়েকদিন বিএসএফ আটকে রাখে এবং তাকে সহ সবাইকে নির্যাতন করে। ঠিকমত খেতে দেয়নি তারা। পরে বুধবার ভোরে এ সীমান্ত দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখনও ভেজা কাপড়ে আছি। আমার বাচ্চাটা ভিজে ঠান্ডায় কাঁপছে। বাংলাদেশীরা আমাদের অনেক সাহায্য করছেন।
অপর পুশইন হওয়া এক মহিলার ভাষ্য, তারা খাবার চাইলেও বিএসএফ তাদের খাবার দেয়নি ঠিকমত। বাচ্চারা খাবারের জন্য কাঁদলেও তাদের মন গলেনি।
অপর পুশ ইন হওয়া ব্যক্তি মনির হোসেন জানান, ১৭ বছর আগে ভারতের হরিয়ানায় যান তিনি। সেখানে ইটভাটায় কাজ করার সময় স্থানীয় পুলিশ ২৪ মে ধরে নিয়ে আটকে রাখে। পরে ১৫ জুন গাড়িতে করে এনে এ সীমান্তে নামিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।
মঈনুল ইসলাম জানান, হরিয়ানার ভাটিপাড়ায় কাজ করার সময় পুলিশ তুলে নিয়ে আটকে রাখার পর নির্যাতন করে এবং ভোরে এক কাপড়ে বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেয়।
এর আগে ২ দফায় গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিষণ সীমান্ত দিয়ে গত ২৮ মে রাতে ১৭ জনকে ও ৩ জুন ভোরে ভোলাহাট উপজেলার চাঁনশিকারী সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।


প্রকাশিত: June 19, 2025 | সময়: 4:15 am | সুমন শেখ