, , ।
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। শনিবার বিকেলে শহরের কেডি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘একুশে পরিষদ’ নওগাঁর উদ্যোগে এই বই মেলা শুরু হয়। বই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান।
উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডিএম আব্দুল বারী। সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, কবি ও সাহিত্যিক আতাউল হক সিদ্দিকী, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান।
বক্তারা বলেন, চেতনার পথে দ্বিধাহীন অভিযাত্রা স্লোগানে ১৯৯৪ সালে একুশে পরিষদ নওগাঁ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নওগাঁকে নতুন করে তুলে ধরে আসছে। অবহেলিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে মানুষের দৃষ্টিতে আনা, সমাজের নানায় অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদে রাস্তায় আন্দোলন করাসহ নানা সামাজিক কর্মকা- চালিয়ে আসছে।
একুশে পরিষদ তার কাজের মাধ্যমে নওগাঁর গন্ডি পেরিয়ে আজকে পুরো দেশে সারা দেশে সাড়া ফেলেছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর মাসের মাসে সফলভাবে বই মেলার আয়োজন করছে সংগঠনটি। একুশে পরিষদের মতো অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
আলোচনা সভা শেষে মেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে একুশে শতকণ্ঠে জাগরণের গান পরিবেশিত হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নওগাঁ বাউল ব্যান্ডের শিল্পীসহ স্থানীয় শিল্পীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে।
আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় জনপ্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমা ছাড়াও অন্বেষা ও মৌমাছি প্রকাশনীর বইয়ের বিশাল সমারোহ থাকবে। এছাড়া স্থানীয় বই বিক্রিয়ের প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরী মেলায় অংশগ্রহণ করছে। এসব স্টলে দেশী-বিদেশী বইয়ের বিশাল সমারোহ থাকবে।
মেলায় ৬৫টি স্টল থাকছে। এরমধ্যে বইয়ের স্টল থাকবে ২৫টি। বাকিগুলো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রদর্শনী ও বিক্রয় স্টল থাকবে।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই বইমেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে সাতদিন ধরে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাধারণ জ্ঞান, গদ্যপাঠ, সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও ভাষার গান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় সংগীত ও নৃত্য একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা উপলক্ষে স্থানীয় লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতি কর্মীদের মিলন মেলায় পরিণত হবে।