বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) এবং স্টেশন পুনর্নিমাণের দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১১ জুন) ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা চলা এই অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ। দীর্ঘক্ষন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়ে যাত্রীরা। তবে, তিন ঘন্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
দাবি নিয়ে আলোচনায় বাসার আশ্বাসের পর আন্দোলনকরীরা অবরোধ তুলে নিলে বুধবার (১১ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এ সময় নন্দনগাছি স্টেশন থেকে সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায়।
এর আগে, স্টেশন সংস্কার ও আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর দাবিতে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস থামিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে মধুমতি এক্সপ্রেস শরদাহ রোড, বনলতা এক্সপ্রেস হরিয়ান, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও মহানন্দ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে থেমে যায়। একইসঙ্গে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছাড়া চারটি ট্রেন রাজশাহীর বিভিন্ন স্টেশনে থেমে ছিল।
বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে নন্দনগাছী রেলস্টেশনের কার্যক্রম। বর্তমানে কোনো লোকাল বা আন্তঃনগর ট্রেন সেখানে যাত্রাবিরতি করে না। প্লাটফর্মে ছাউনি থাকলেও স্টেশনটি পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। মাঝে মাঝে কিছু ট্রেন ক্রসিংয়ের জন্য থামলেও যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকে না।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সিল্কসিটি, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও ঢালার চর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও স্টেশন সংস্কারের দাবি জানানো হয়। এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। এ সময় তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন ছাড়ার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবো। ট্রেনে অনেক রোগী, নারী যাত্রী আছেন। তারা গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। এ কারণে অবরোধ তুলে নিলাম।
ঘটনাস্থলে এসে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি আক্তার বলেন, আমরা তাদের দাবিগুলো শুনবো। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
রাজশাহী পশ্চিমাাঞ্চলের মহাব্যবস্থপক আহম্মেদ মাসুম জানান, এভাবে ঈদের পরে ট্রেন বন্ধ করে অবরোধ করা খুবই দু:খজনক। এটা জনদুভোগ ছাড়া কিছুই নেই। ট্রেন থামানোর সিদ্ধান্ত ঢাকা থেকে না আসলে আমার পক্ষে ট্রেন থামানো কোনভাবেই সম্ভব নয়।