বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চিরন্তন উত্তরাধিকার

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রথম জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন, যখন তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য তিনি “বীর উত্তম” খেতাব পান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সময় জিয়া একজন স্থিতিশীল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”-এর ধারণা তুলে ধরেন, যা দেশের ইসলামী ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে গুরুত্ব দেয় এবং আওয়ামী লীগের প্রচলিত “বাঙালি জাতীয়তাবাদ”-এর একটি বিকল্প রূপ উপস্থাপন করে। তিনি একদলীয় বাকশাল শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এক জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্বকে বৈধতা দেন, ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করেন এবং আত্মনির্ভরশীলতা, পল্লী উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে “গ্রাম সরকার”সহ স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার বিকাশে জোর দেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ছিল বহুমাত্রিক, যা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে এবং জাতিসংঘ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ঙওঈ)-এর মতো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান নিহত হন। কিন্তু তাঁর প্রভাব গভীর এবং স্থায়ী। তিনি যে রাজনৈতিক রূপান্তর, গণতন্ত্রচর্চা এবং আদর্শিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। বিএনপি এখনো তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিদ্যমান থাকলেও দেশের রাজনীতিতে তাঁর আসল উত্তরাধিকার বহন করছে অনেকাংশে নতুন শক্তিগুলো।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা সংস্থা সার্ক গঠনের প্রস্তাব ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১৯৮০ সালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলেই ১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। জিয়া বিশ্বাস করতেন, দারিদ্র্য, অনুন্নয়ন ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জরুরি। সার্ক গঠনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে কেবল একটি উদ্যোগী সদস্য রাষ্ট্রে পরিণত করেননি, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ঐক্য ও সমন্বয়ের ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও ভবিষ্যৎমুখী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার যে নেতৃত্বগুণ দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দেশপ্রেম, জনগণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ এবং জাতীয় সংকটে সাহসী অবস্থান আজ প্রতিফলিত হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বে, বিশেষ করে তাঁর কর্তৃত্ববাদ বিরোধী সংগ্রামের সময়, এবং সাম্প্রতিকভাবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী জাতীয়তাবাদী নাগরিক মঞ্চ (এনসিপি)-এর উদীয়মান নেতৃবৃন্দের মাঝে। এই তরুণ নেতারা রাষ্ট্রপতি জিয়ার মতোই সাহসিকতা, কৌশলগত দূরদৃষ্টি ও জনসম্পৃক্ত ভাষা ব্যবহার করে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তাঁরা নিষ্ক্রিয় রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে জবাবদিহিতা, জাতীয় ঐক্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি তুলেছেন, যা ছিল জিয়ার রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। যুদ্ধের ময়দান থেকে ব্যালট পর্যন্ত: বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চিরন্তন উত্তরাধিকার।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রথম জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন, যখন তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য তিনি “বীর উত্তম” খেতাব পান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সময় জিয়া একজন স্থিতিশীল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”-এর ধারণা তুলে ধরেন, যা দেশের ইসলামী ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে গুরুত্ব দেয় এবং আওয়ামী লীগের প্রচলিত “বাঙালি জাতীয়তাবাদ”-এর একটি বিকল্প রূপ উপস্থাপন করে। তিনি একদলীয় বাকশাল শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এক জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্বকে বৈধতা দেন, ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করেন এবং আত্মনির্ভরশীলতা, পল্লী উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে “গ্রাম সরকার”সহ স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার বিকাশে জোর দেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ছিল বহুমাত্রিক, যা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে এবং জাতিসংঘ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থা এর মতো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান নিহত হন। কিন্তু তাঁর প্রভাব গভীর এবং স্থায়ী। তিনি যে রাজনৈতিক রূপান্তর, গণতন্ত্রচর্চা এবং আদর্শিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা সংস্থা সার্ক গঠনের প্রস্তাব ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১৯৮০ সালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলেই ১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। জিয়া বিশ্বাস করতেন, দারিদ্র্য, অনুন্নয়ন ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জরুরি। সার্ক গঠনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে কেবল একটি উদ্যোগী সদস্য রাষ্ট্রে পরিণত করেননি, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ঐক্য ও সমন্বয়ের ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও ভবিষ্যৎমুখী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত।
মোঃ হাবিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
মাদার বখ্শ্ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, রাজশাহী


প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৫ | সময়: ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ