বেশি দামে চামড়া কিনে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

স্টাফ রিপোর্টার: কোরবানীর ঈদ আসলেই রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় চামড়া নিয়ে নতুন কিছু ব্যবসায়ী মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। কয়েক দিনের খাটুনিতে পুঁজি খাটিয়ে বেশি টাকা লাভের আশায় এরা পাড়ায় পাড়ায় চামড়া কেনার জন্য ছুটে বেড়ায় এসব মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। পরে সে চামড়া বিক্রি করে থাকেন। এবারও চিত্র একই। কিন্তু এবার লাভের আশায় গুড়ে বালি। বেশি দামে চামড়া কিনে বিক্রি করতে হয়েছে কম দামে। এতে লোকশানে পড়েছেন অনেকেই।
ঈদের দিন সকাল থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চামড়া কেনেন। এবার সরকার নির্ধারিত দাম বেধে দিয়েছিল। সেই হিসেব অনুযায়ী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া কিনেছিলেন ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সে চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। চামড়া আড়তে গরুর চামড়া কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি কেউই দাম বলছে না।
এমন পরিস্থিতিতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। চামড়া কিনে তারা যে লাভের আশা করেছিল তা আর হয়নি। উল্টো পুাঁজি হারিয়েছেন অনেকেই।
এদিকে দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে কোরবানির পশুর ১২০ থেকে ১৩০টি চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে নদীর পানিতে। রোববার (৮ জুন) রাতে বায়া নওহাটা রাস্তার ওপর বারনই নদীতে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসব চামড়া ফেলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতে কে বা কারা এসব কোরবানির পশুর চামড়া নদীতে ফেলে যায়। সোমবার (৯ জুন) সকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে পড়ে। প্রায় ১২০ থেকে ১৩০টি চামড়া জলাবদ্ধ পানিতে আটকে এরই মধ্যে পচতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব আলী বলেন, সকালে আমরা নদীর পানিতে চামড়া পড়ে থাকতে দেখেছি। তবে কে বা কারা ফেলে গেছে সেটি জানা নেই। এসব চামড়া পানিতে পচতে শুরু করেছে ও প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব চামড়া নদীতে ফেলে গেছে এগুলো ছাগল ও ভেড়ার চামড়া। এবার কোরবানির ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার দাম কম থাকায় অনেকে চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছি।
চামড়ার পাইকার ক্রেতারা জানান, হঠাৎ করে লবণের দাম অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে গরমে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা চামড়াগুলোর মান অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এসব চামড়া কিনতে গেলে নিজেদের লোকশান গুনতে হবে।
রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, গরুর চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনেছে পাড়া-মহল্লা থেকে। গরু চামড়া তারা এক হাজার এক শ টাকা পর্যন্ত কিনেছে। খাসি বকরি ও ভেড়ার চামড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কিনেছে। অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সমস্যযুক্ত গরুর চামড়াও কিনেছে বেশি দামে। লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত অনেক গরুর চামড়াও কিনেছে বেশি দামে। এসব চামড়ায় সমস্যা। সমস্যাযুক্ত চামড়াগুলো ঢাকায় ট্যানারিতে বিক্রি করা যাবে না। অন্যদিকে খাসির চামড়ারও অধিকাংশই কাটা ও ফুটা।


প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৫ | সময়: ২:৪০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ