সর্বশেষ সংবাদ :

তীব্র গরমে আখের রস ও শরবতের কদর

স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: প্রচন্ড গরম বাতাসের সঙ্গে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। কয়েক দিন থেকে শুরু হয়েছে এ গরম এখনো চলছে।
এ অবস্থায় প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে অতিষ্ঠ মানুষ স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন ফুটপাতের শরবতে। গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানির শরবত পানে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। এই আশঙ্কা নিয়েও তৃষ্ণা মেটাতে মানুষ ছুটছেন শরবতের দোকানে। তাই শরবতের চাহিদা আর কদর বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন দোকান।
শহর কিংবা গ্রামে প্রায় সড়কেই ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। মূলত রিকশাচালক, দিনমজুর ও পথচারীরা ভিড় করছেন সেখানে। ভাসমান দোকানগুলোতে আখের শরবতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রখর রোদে ঘাম ঝরিয়ে পথ চলতে হচ্ছে শ্রমজীবী ও পথচারীদের। তৃষ্ণার্ত হয়ে পান করছেন শরবত।
প্রধান সড়কের পাশ থেকে শুরু করে অলিগলিতে লেবু-আখের শরবতের অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। সেখান থেকে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন পথচারীরা। ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে পাওয়ায় এসব শরবতের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। বুধবার ১৪ মে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
গোদাগাড়ী পৌরসভার পাশে সকাল ৯টা থেকেই আখের শরবতের দোকান নিয়ে বসেছেন মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর থেকে বেচাকেনা বেড়েছে। দৈনিক দুই থেকে তিন হাজার টাকার আখের রস বিক্রি করি। বৃষ্টি শুরু হলে আবার কমে যাবে। তখন মানুষ আর ঠান্ডা খেতে চায় না। এখন যে তীব্র গরম অনেকেই একই সঙ্গে দুই গ্লাস করে শরবত খাচ্ছেন। রিকশাচালক ও ভ্যান চালকদের চাহিদা বেশি।
একই কথা বলেন ডাইংপাড়া মোড়ের শরবত বিক্রেতা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা গ্রীষ্মের এ কয়দিন। বড় বড় জুসের দোকানে দাম বেশি তাই সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে পারে না। এখানে ১০ টাকা দিয়েই তৃষ্ণা মেটাতে পারে সবাই। সাধারণত এক গ্লাস ১০টাকা বিক্রি করি। সঙ্গে ট্যাংক দিয়ে ১৫ টাকা। দিনে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গ্লাস শরবত বিক্রি করি।
আজিজ নামে এক পথচারী বলেন, ‘মার্কেটিংয়ের কাজ করি, বেশিরভাগ বাইরে থাকা লাগে। একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাই। ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত হয়ে যাই। প্রায় দিনই শরবত খাওয়া লাগে।
এ বিষয়ে ৩১ শ্যযা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহাদত হোসেন শিমুল বলেন, যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা কিংবা ফুটপাতের দোকান থেকে শরবত পানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
‘ফুটপাতের শরবতে অবশ্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে। এগুলো থেকে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস এসব হতে পারে। ফুটপাতে শরবত খাওয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।’ এক্ষেত্রে বোতলে বিশুদ্ধ পানি বহন করাই সবথেকে ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৫ | সময়: ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ