, , ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলে ভুট্টা খেতের পাতা কাটায় খুন করা হয়েছে কৃষক শফিকুল ইসলামকে। জমির মালিক লতিফুল ইসলাম গিয়াস তার পরিবারের কাছে এমনটি স্বীকারক্তি দিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই হত্যাকান্ডের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চর কালিদাশখালীর আমবাগান এলাকার একটি ভুচ্চা ক্ষেত থেকে শফিকুল ইসলাম(৩৫)এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শফিকুল ইসলাম উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালিদাশখালীর আমবাগান এলাকার ফজল শেখের ছেলে। সে ঐ দিন বিকেলে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে হিয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফজল শেখ বাদি হয়ে ওইদিন রাতে বাঘা পৌর সভার মশিদপুর গ্রামের জিন্নাতের ছেলে ভুট্টা ক্ষেতের মালিক লতিফুল ইসলাম গিয়াস উদ্দীনকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে স্থানীয় লোকজনের উক্তি , সন্ধ্যার পূর্বে লতিফুল তার নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন এবং বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এমন কি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এলাকার লোকজন ধারনা করছেন , রাগের বসীভুত হয়ে তিনি এই হত্যা যজ্ঞ চালিয়ে এলাকা ছেড়েছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, লতিফুল ইসলাম গিয়াসের (৩৫) কালিদাসখালি চরে ভুট্রা ক্ষেত রয়েছে। কে-বা কারা সেই ক্ষেতের ভুট্রার মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপর থেকে সে ওৎ পেতে ছিল ভুট্রার মাথা কাটা লোককে ধরার জন্য। ঘটনার দিন সে ক্ষেতে গিয়ে ভুট্রার পাতা কাটতে দেখে চরাঞ্চলের কৃষক শফিকুল ইসলামকে। এ সময় ধারালো হাসুয়া দিয়ে তিনি পেছন থেকে শফিকুল ইসলামের বাম বগলের নীচে কোপ মারেন । এর ফলে শফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। পরে মাঠ পাহারাদার হাবলু হোসেন রক্তাক্ত অবস্থায় শফিকুলকে পড়ে থাকতে দেখে তার ভাগনে আবদুল হালিমকে খবর দেন। এরপরে আবদুল হালিম স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমত আরা রেশমা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শফিকুল ইসলামের স্ত্রী শারমিন খাতুন জানান , তার কোলে আড়াই বছরের প্রতিবন্ধী এক ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। স্বামীকে হারানোর পর থেকে পরিবারে শোকের মাতাম চলছে। তার মেয়ে প্রতিনিয়ত বাবার জন্য আহাজারি করছে। কিন্তু তার সন্তানকে শান্তনা দেয়ার ভাষা পাচ্ছেন না। তিনি এ ঘটনার আসামীকে অতিসত্ত্বর আটক করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, লতিফুল ইসলাম গিয়াস এর ভুট্টা ক্ষেতের পাতা কাটায় শফিকুলকে খুন করা হয়েছে বলে তার পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এরপরও পুলিশ তদন্ত করছে। তবে তার বাম হাতের বগলের নিচে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িত লতিফুল ইসলাম গিয়াসকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সানশাইন /নুরুজ্জামান /শামি