বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রির্পোটার, মোহনপুর: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা পনের দিন ধরে অবস্থান করছেন হাবিবা বেওয়া (৪২) নামে দুই সন্তানের জননী। এ ঘটনার জেরে ওই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন প্রেমিক দেবর হাফিজুর রহমান।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রায়ঘাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মকিনপুর হাটরা গ্রামের প্রেমিকের বাড়ীতে অবস্থান করছেন ওই নারী। প্রেমিক হাফিজুর রহমান মৃত ছলিমুদ্দিনের ছেলে। অনশনে থাকা হাবিবা বেওয়া হাটরা সোনার পাড়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস আলীর স্ত্রী।
জানা গেছে, হাফিজ ও হাবিবা দুজনই প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে দেবর ও ভাবী। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে গত ৬ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময়ে ঘুরতে গিয়ে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। বিষয়টি এতদিন গোপন রাখলেও গত ২৭ মার্চ হাফিজুরকে মোবাইল করে হাবিবা বিয়ের জন্য চাপ দিলে হাফিজ বিয়ে করতে অস্বীস্কৃতি জানালে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নেয় হাবিবা। এ সময় হাবিবাকে হাফিছ ও তার মা মিলে মারপিট করতে থাকলে একপর্য়ায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে তারা বাড়ী হতে পালিয়ে যায়।
হাবিবা বলেন, ‘হাফিজুরের সাথে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছে। হাফিজুর বিয়ের অজুহাতে জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে। সবশেষ হাফিজের নিজ কক্ষে নিয়েও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফের তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। বিষয়টি এতোদিন তিনি গোপন রেখেছিলেন বিয়ে করবে বলে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু গত ২৫ মার্চ থেকে হাফিজ আমার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয়। আমি লোকমুখে শুনেছি হাফিজ অন্যত্র বিয়ে করার পরিকল্পনা করছে। যার কারণে আমি আমার পবিত্র ভালোবাসা রক্ষার্থে এবং আমাদের শারীরিক সম্পর্ককে কলঙ্কমুক্ত করতে হাফিজের বাড়িতে এসে গত পনেরদিন ধরে অবস্থান করছি। আমি তার বাড়িতে এসেছি আমাকে মারপিট করে সে পালিয়ে গেছে।’
হাবিবা বলেন, ‘হাফিজুরের আগে ২ জন স্ত্রী ছিল সব জেনে আমি তাকে ভালোবেসেছি। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে তাহলে আত্মহত্যা করব। আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি তার বাড়ি থেকে যাব না।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাফিজুর মোবাইল ফোনে জানায় আমি নাবিল গ্রুপে চাকুরী করতাম। কিছুদিন আগে চাকুরী ছেড়ে বর্তমানে গরু খামারের ব্যবসা করি। তাই আমার টাকা পয়সা নষ্ট করার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘বিয়ের দাবিতে পনেরদিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থানের বিষয়টি গ্রাম মাধ্যমে জানানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।