বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের দীর্ঘ ছুটির কাটানোর পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। অনেকেই গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরছেন যার যার চাকুরিস্থলে। বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য যানবাহনে করে মানুষ ফিরে যাচ্ছে তারা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর বাস টার্মিনালে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসে ভিড় করছে মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বা একা এসেছেন।
এদিকে কিছু যাত্রীকে রাজশাহীতে আসতেও দেখা গেছে। যাদের কর্মস্থল রাজশাহীতে তারা আবার রাজশাহীতে ফিরছেন।
রাজশাহী শিরোইল বাস টার্মিনালের বাসের অপেক্ষায় থাকা ফরহাদ নামে একজন যাত্রী বলেন, ঈদ পরিবারের সঙ্গে করেছি। খুব ভালোও লেগেছে। বাড়িতে অনেক আনন্দ-ফুর্তি করেছি। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি। কিন্তু, কর্মস্থলে যোগ দেয়ার জন্য চলে আসলাম। এখন সবকিছুই স্মৃতি হয়ে গেছে। ঈদের সময় কাটানো সময়গুলোকে খুব মিস করছি।
রিয়াজ নামের আরেকজন যাত্রী বলেন, ছুটি শেষ। রবিবার থেকে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। এখন আমি ফিরছি। অনেক সুন্দর সময় কাটালাম। বেঁচে থাকলে সামনে ঈদে ফিরবো।
শিরোইল বাস টার্মিনালে গেলে দেখা যায়, ঢাকা থেকে কিছুটা সিট ফাঁকা আসলেও ঢাকা বা বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো পূর্ণ থাকছে যাত্রীতে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ফিরতে শুরু করেছেন মানুষরা। টার্মিনাল ছেড়ে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। অনেককে রাজশাহীতে আসতে দেখা গেছে। তবে সে সংখ্যাটা খুব কম।
এবারের ঈদের যাত্রা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ন হওয়ায় ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করতে পেরেছেন ঘরমুখো মানুষরা।
বাস টার্মিনালে কথা হয় ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া কামাল আহমেদ নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবা মায়ের সাথে ঈদ কাটাতে রাজশাহী এসেছিলাম। কাল থেকে অফিস শুরু, তাই ফিরে যাচ্ছি। যাত্রাপথে তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি।
টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাওয়া নাইম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষ, তাই চলে যাচ্ছি। তবে ইচ্ছে ছিল আরও কিছুদিন পরিবারের সাথে থাকার। কিন্তু চাকরির জন্য চলে যেতে হচ্ছে।
পরিবারসহ ঢাকার উদ্দেশ্যে যেতে টার্মিনালে এসেছেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সাথেই বাড়ি ফিরি। রবিবার থেকে আমার অফিস খোলা, তাই চলে যাচ্ছি। এবারের ঈদযাত্রায় তেমন একটা কষ্ট হয়নি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, তাদের প্রতিটি বাসই ঠিকঠাক সময় রাজশাহী টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সময়মতো ঢাকা থেকে আসছেও।
পরিবহনের কর্মী শুকুর আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময়েই বাস ছেড়ে ঢাকায় ঢুকেছি। তেমন জ্যাম পাওয়া যায়নি।