বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
অহিদুল হক: সারাদেশে ১৪ হাজারের মতো ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারেরা (সিএইচসিপি) গত নয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। রাজশাহী ও নাটোরের সব স্বাস্থ্যকর্মীরাও এবার ঈদ বঞ্চিত। ঈদের আগমুহুর্তে সাড়ে তিন মাসের বেতন দেয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ কর্মদিবসেও খালি হাতে ফিরে গেছেন তারা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাদের।
নাটোরের বড়াইগ্রামের ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারেরা (সিএইচসিপি) গত নয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
জানা যায়, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য উপজেলায় মোট ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩৮ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। গত বছরের জুন মাসে তারা সর্বশেষ বেতন পেয়েছেন। এরপর ঢাকায় আন্দোলনের মুখে গত বছরের ২০ আগষ্ট অন্তবর্তী সরকার সিএচইসিপিদের (স্বাস্থ্যকর্মী) চাকরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আশ্বাস দেন। কিন্তু তাদের এ আশ্বাসের পরও প্রকল্প খাত বা রাজস্ব খাত কোনটা থেকেই তাদের কোন বেতনভাতা ছাড় করা হয়নি।
তবে সম্প্রতি ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ১৫ ডিসেম্বর থেকে রাজস্ব খাত থেকে সাড়ে তিন মাসের বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আর তার আগের আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের সাড়ে চার মাসের বেতনভাতা পরে দেয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঈদের আগে সর্বশেষ কার্য্যদিবসে সারাদিন ব্যাংকে ধর্ণা দিয়েও বেতন না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান সিএইচসিপিরা। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বেতন-বোনাস না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তারা। অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এ ব্যাপারে চৌমুহন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী সাইফুল ইসলাম জানান, ৯ মাস ধরে বেতন পাই না। ঈদের আগে বেতন পাওয়ার খবর পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু শেষ দিনে ব্যাংকে গিয়েও টাকা না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়ে গেলাম। ছেলেমেয়েদের জন্য যে একটু কাপড়-চোপড় কিনবো সে অবস্থাও রইলো না।
রোলভা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী বোরহান উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় প্রচুর টাকা দোকান বাঁকি হয়ে গেছে। ঈদের আগে বেতন পেয়ে টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলাম। এখন এতো টাকা বাঁকি রেখে পুনরায় টাকা ছাড়া জিনিসপত্র কিনতে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী জেলায় কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ২৫০ মতো কমিউনিটি ক্লিনিক আছে এ জেলায়। তাদের কেউই ঈদের আগে বেতন পাচ্ছেন না। এ নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে তাদের পরিবারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঈদের আগে রাজস্ব খাত থেকে সাড়ে তিন মাসের বেতন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহুর্তেও কেন তারা বেতন পেলেন না, তার সঠিক কারণ জানি না।