বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মাহফুজুর রহমমান প্রিন্স, বাগমারা: বৃহত্তর বাগমারাকে প্রশাসনিক ভাবে সকল দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম। এক বছরে বাগমারার সার্বিক অনেক উন্নয়নেই ভূমিকা রেখেছেন তিনি। খবর পেয়ে ছুটে গেছেন অসহায় গরীব দুখী প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে। এভাবে একের পর এক আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে ইউএনও থেকে তিনি মানবিক ইউএনও’তে ভূষিত হয়েছেন। এবার সেই মানবিক ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম দরিদ্রদের মাঝে বাগমারা উপজেলা পরিষদের সরকারি দিঘীর মাছ বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা দিঘী থেকে প্রায় লক্ষাধীক টাকার রুই কাতলা মৃগেল তেলাপিয়া সিলভারকার্প সহ বিভিন্ন দেশী প্রজাতির মাছ মেরে সেগুলো দরিদ্র অসহায় ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধী লোকজনের মাঝে বিতরণ করেন। তার এই মহতি উদ্যোগকে এলাকার লোকজন সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তারা জানান, ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম গত বছর মার্চ মাসে বাগমারায় যোগদান করেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাগমারায় তার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি বাগমারায় যোগদানের পর থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক নির্মুল, পুকুর খনন প্রতিরোধ, ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌরসভায় যানজট মুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন সহ বিভিন্ন জনকল্যান মূলক কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।
এরই ধারাবহিকতায় ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম এবার উপজেলার দরিদ্রদের মাছ বিনামূল্যে মাছ বিতরণ করে সাড়া ফেলেছেন।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোদ কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ জানান, এখন রমজান মাস। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রোজা রেখেছে। এমনিতেই রোজার সময় নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বর্তমানে বাজারে মাছ মাংসের দাম আকাশ ছোয়া। এই দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধোগতির বাজারে হতদরিদ্র মানুষরা মাছ মাংস কেনার সামর্থ রাখে না। এমন পরিস্থিতিতে ইএনও সাহেবের এই মহতি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
মঙ্গলবার ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক হতদরিদ্র লোকদের মাঝে লক্ষাধীক টাকার মাছ বিতরণ করেছেন। এর আগেও গত বছর ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম জৈষ্ঠ্য মাসে উপজেলা পরিষদের আম বাগানের মাছ সরকারি ভাবে নিলামে বিক্রি না করে দরিদ্রদের মাঝে বিলি করে এলাকার মানুষের কাছে সাধুবাদ পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ১৯ মার্চ বাগমারায় যোগদান করেন মাহবুবুল ইসলাম। বাগমারায় এক বছরে ঘটে গেছে অনেক অঘটন। অনেক ঘটনারই স্বাক্ষী হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্যে দিয়ে দায়িত্বে ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম। ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে শুরু হয় নতুন করে পথচলা। উপজেলার পাশাপাশি আইন সালিশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্ট এর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। সেই হিসেবে তাহেরপুর পৌরসভায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় তাহেরপুর পৌরসভায় চালু করেন ব্যাংকিং পদ্ধতিতে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ব্যবস্থা। এর ফলে হয়রানি মুক্ত সেবা পাচ্ছে পৌরবাসী। কর আদায় বেড়েছে চার গুণ। সে সাথে তাহেরপুর পৌরসভার নাগরিক অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে সম্প্রতি সানশাইন সহ একটি জাতীয় গণমাধ্যমে বাগমারায় ‘স্বামী-স্ত্রীসহ ৮ সদস্যের পরিবারে ৬ জনই প্রতিবন্ধী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি নজরে আসে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামের। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেন পরিবারটির। পরিবারের উপার্জনক্ষম স্বাভাবিক থাকা রেজাউল হককে নিজ দপ্তরে ডেকে পাঠান। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং মূল সমস্যাগুলো শোনেন। পরিবারের কয়েক সদস্যের হুইল চেয়ারে প্রয়োজন হওয়াতে দ্রুত তাদের হুইল চেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এছাড়াও একই সময়ে উপজেলার আরও ২৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার ও ছয়জনকে ট্রাইসাইকেল দেওয়া হয়। চেয়ার পেয়ে খুশি হন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া বাগমারার একাধিক হতদরিদ্র ছাত্রীকে মেডিকেলে ভর্তি হতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করেন ইএনও মাহবুবুল ইসলাম। এভাবেই তিনি মানবিক ইউএনও’র খ্যাতি অর্জন করেন।
পাশাপাশি বাগমারার কৃষি জমি রক্ষায় নিয়েছেন ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। অবাধে কোথাও যেন পুকুর খনন না হয় সেটা শক্ত হাতে দমন করে চলেছেন। বাগমারার যেখানেই অনিয়ম সেখানে ছুটে গেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমার উপর যে দায়িত্ব সেটা আমি যথাযথ পালনের চেষ্টা করেছি মাত্র। মানুষ যেন সরকারি সেবা নিতে এসে হয়রানের শিকার না হয় এদিকে আমি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকি। সরকারি সেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার। এসবের পাশাপাশি হতদরিদ্রদের জন্য সামান্য কিছু করার চেষ্টা করছি মাত্র।
হতদরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে মাছ ও গত বছর আম বিতরণ করা প্রসঙ্গে ইউএনও সানশাইনকে জানান, এই হতদরিদ্র লোকজন যারা ভসমান ভিক্ষুক এবং খুবই দরিদ্র যারা সরকারি তেমন সুযোগ সুবিধা পায়না। তারা যেন এই রোজায় ভালভাবে সেহরি ইফতার করতে পারে তাই তাদের জন্য এই সামান্য মাছ বিতরণ করা হয়েছে।