বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মাহফুজুর রহমান প্রিন্স,বাগমারাঃ
জাতীয় ফল কাঁঠাল। গাছে গাছে এখন কাঁঠালের মোচা আসা শুরু করেছে। তবে গাছেই পচে পচে খসে পড়ছে কাঁঠালের মোচা। এতে কাঁঠালের ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। আকষ্মিক কাঁঠালের এই পচন রোগ দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাগান মালিকরা। এখন আম গাছে মুকুল ধরার মত কাঁঠাল গাছেও মোচা ধরা শুরু করেছে। উপজেলার অধিকাংশ এলাকার কাঁঠাল গাছে এমন পচন রোগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য মতে, এই উপজেলায় আমের পাশাপাশি কাঁঠালের উৎপাদন বেশ ভালো। তবে এখানে আমের মত কাঁঠালের তেমন বাগান গড়ে ওঠেনি। বাড়ির আশে পাশে রাস্তার ধারে ও উচু ভিটায় রয়েছে ব্যাপক কাঁঠাল গাছ। বাগমারার ১৬ টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাতেই রয়েছে কমবেশি কাঁঠাল গাছ। তবে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল গাছ রয়েছে গোয়ালকান্দি ও তাহেরপুর এলাকায়। এবার মৌসুমের শুরুতেই কাঁঠাল গাছে ব্যাপক মোচা আসে। তবে অনাবৃষ্টি ও পরিচর্চাহীনতার কারণে কাঁঠাল গাছে মড়ক দেখা দিয়েছে। কাঁঠাল গাছের মোচা একটু বড় হতে না হতেই সেগুলো পচে পচে খসে পড়ছে।
গোয়ালকান্দির কৃষক আব্দুর রউফ জানান, ছোট বড় মিলে তার বাইশটি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন জাতের বীজ সংগ্রহ করে তিনি গাছ গুলো তৈরি করেছেন। দু’একটি বাদে এবার তার সবগুলো গাছেই মোচা এসেছে। তবে মোচাগুলো একটু বড় হতে না হতেই পচে পচে খসে পড়ছে। এই অবস্থায় কি করনীয় তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার মত এই ইউনিয়নের আরো অনেক কৃষকের কাঁঠাল গাছের একই পরিনতি হয়েছে। উপজেলার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ চত্তরে রয়েছে বেশ কিছু কাঁঠাল গাছ। এখানেই গাছে গাছে কাঁঠালের মোচা এসেছে। এখানকার কাঁঠাল গাছের মোচার একই অবস্থা। কলেজ শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, এর আগে কাঁঠাল গাছের এমন পরিনতি হয়নি। এবার ব্যাপক হারে পচন রোগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আম গাছের মত কাঁঠাল গাছেরও নিয়মিত পরিচর্চা করা দরকার। কাঁঠাল গাছ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মরা ডাল থাকলে সেগুলো কেটে ফেলতে হবে নিয়মিত গাছে পানি দিতে হবে। কাঁঠাল গাছে মোচা ধরার সময় অতিরিক্ত মোচা গুলো ফেলে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া কোন মোচায় পচন দেখা দিলে সাথে সাথে সেগুলো কেটে বাদ দিতে হবে। সামনে আসছে আম কাঁঠালের মৌসুম। তার অফিসের সকল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষক ও বাগান মালিকদের পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সানশাইন /প্রিন্স/শামি