সর্বশেষ সংবাদ :

হাঁটুভর কাদার দুর্ভোগ

আত্রাই প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৭নং কালিকাপুর ইউনিয়নের পাইকড়া থেকে বাজেধনেশ্ব গ্রামের মধ্য দিয়ে ফারামের বাড়ী সংলগ্ন পাকা রাস্তা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তাটির করুণ দশায় স্থানীয় জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি দুর্গম কাদার সাগরে পরিণত হয়, যা যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি ইটসোলিং ও পাকা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এমনকি জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে চরম হতাশায় নিমজ্জিত গ্রামবাসী।
কালিকাপুর ইউনিয়নের মধ্যে এই রাস্তাটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত বলে জানান স্থানীয়রা। এই সড়কটি শুধু পাইকড়া ও বাজেধনেশ্ব গ্রামেরই যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বড়াইকুড়ি, কচুয়া, বাগমারা, উলাবাড়িয়া, কুশাতা, শলিয়া, লালুয়া সহ আশেপাশের প্রায় এক ডজন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ।
এছাড়া পাইকড়া হাট ও কুশা বাজারে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে বাজারযাত্রী, কৃষক, এমনকি জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত এই রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এই রাস্তা সংস্কারের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। নেতারা শুধু ভোটের সময়ই তাদের সমস্যার কথা মনে রাখেন, ক্ষমতায় গেলেই সব প্রতিশ্রুতি ভুলে যান।
৭ নং কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বাজেধনেশ্ব গ্রামের মেম্বার মো. আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের আমলে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল পাইনি। স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সদয় দৃষ্টি পড়ছে না।
বাজেধনেশ্ব গ্রামের এনামুল হক বলেন, এই রাস্তার অবস্থা এতই শোচনীয় যে জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত চলাচল করতে পারে না। স্কুলগামী শিশুরা প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছি, কিন্তু কেউ আমাদের দিকে ফিরেও তাকায় না। ২০২৫ সালের মধ্যে রাস্তাটি পাকাকরণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা এই রাস্তার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমার বলেন, এই রাস্তাটি আমাদের নজরে রয়েছে। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে, বাজেট বরাদ্দ পেলেই কাজ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, রাস্তাটি আমাদের নজরে এসেছে। স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে এই রাস্তাটি পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা যায়। আমরা স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ অবস্থায়, কালিকাপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়রা জোর দাবি জানাচ্ছেন, যেন অবিলম্বে এই রাস্তাটি পাকা করে তাদের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়। তারা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করুক, যাতে আর কেউ কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে না হয়।


প্রকাশিত: August 11, 2025 | সময়: 3:36 am | সুমন শেখ