বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: সাত দফা দাবি না মানলে আগামী ২৫ মার্চ থেকে পরবর্তী ১৫ দিন সারা দেশে ইট বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী সমিতি। এরপরেও দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছর থেকে দেশের সব ইট ভাটায় ইট উৎপাদন বন্ধের কথা জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারি সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান। এর আগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইট ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা টাঙ্গাইল জেলা সদর এলাকায় জড়ো হন। এরপর তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারির মালিক সমিতির নেতারা।
সমাবেশে মালিক সমিতির নেতারা বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক জড়িত। সবকিছুই মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি মানুষের রুটি রুজির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই খাতের মালিকদের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ব্যাংকে লোন রয়েছে। ইট ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে লোনের টাকা অনাদায়ী থেকে যাবে। হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার। ঝিকঝ্যাক ইটভাটার ছাড়পত্র ও লাইন্স প্রাপ্তির জটিলতার নিরসনের জন্য বাংলাদেশের ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি সাত দফা দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
দাবিগুলো হলো- ২০১৩ সনের ইট ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনের জিগজাগ ভাটা বৈধ পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও উক্ত আইনের ৮ (৩) (ঙ) এবং ৮ (৩) (খ) উপ-ধারায় “দূরত্ব নির্দিষ্ট” করনের কারণে দেশের কিছু জিগজাগ ইট ভাটার মালিকগণ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর হাইব্রিড কিলুন এবং ট্যানেল কিলন এর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ এলাকার দূরত্ব ১০০০ মিটারের পরিবর্তে ৪০০ মিটার নির্ধারন করেছে, সুতরাং আমাদের জিগজ্যাগ ভাটার জন্য উক্ত আইনের ৮ (৩) (ঙ) ধারায় নিষিদ্ধ এলাকার দূরত্ব ৪০০ মিটার এবং আইনের ৮ (৩) (খ) এ বনের দূরত্ব ৭০০ মিটার করে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্র জারীর মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ প্রদান।
জিগজাগ ইটভাটায় কোনো প্রকার হযরানী বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না, তা না হলে ভ্যাট টেক্স দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো ইট ভাটা বন্ধ করতে হলে সরকারিভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা বন্ধ করতে হবে। মাটি কাটার জন্য ডিসির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বিধান বাতিল করতে হবে। পরিবেশগত ছাড়পত্র, ডি.সি লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্রাদি ইস্যু/নবায়নের সময় কেন্দ্রীয় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির প্রত্যয়ন পত্র বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার বিধান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। ইট ভাটাকে শিল্প হিসাবে ঘোষণা দিতে হবে ও ইট ভাটা পরিচালনায় দীর্ঘ মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
এক কার্গো এলএনজি কেনার
অনুমোদন, ব্যয় ৬৬৪ কোটি টাকা
সানশাইন ডেস্ক: দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রায় ৬৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দরপত্রের মাধ্যমে বাছাই করা মার্কিন কোম্পানি এক্সেলারেট এনার্জি লিমিটেড পার্টনারশিপ (এক্সেলারেট এনার্জি এলপি) এর কাছ থেকে এই পরিমাণ এলএনজি কেনা হচ্ছে।
২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রত্যাশাগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৪১০ টাকা।
মঙ্গলবার (১১মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কমিটির সভায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সূত্রে জানা যায়, পেট্রোবাংলা এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী চুক্তিবদ্ধ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তিনটি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে যুতসই হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স এক্সেলারেট এনার্জি এলপি, আমেরিকা এই এক কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলার হিসাবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি ক্রয়ে ব্যয় হবে ৬৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৪১০ টাকা। এক কার্গো এলএনজি সমমান ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।
১৫ বছরের জন্য এলএনজি কিনতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিটির কাছ থেকে প্রতি বছর ১০ লাখ টন এলএনজি কেনার পথ খুলে যায়।