পেঁয়াজে লোকসান গুনছেন কৃষক

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: উপজেলার অন্যতম অর্থকরি ফসল পেঁয়াজ। এখানকার তাহেরপুরী পেঁয়াজ দেশ বিখ্যাত। এই পেঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় এমনকি বিদেশেও রপ্তানী হয়।
গতবছর দেশব্যাপি পেঁয়াজের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। দাম বাড়তে বাড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ দেড়শ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই লাভের আশায় আবারও কৃষক পেঁয়াজ চাষে মেতে ওঠে। এভাবে পেঁয়াজ চাষ উপজেলায় লক্ষমাত্রা ছড়িয়ে যায়। ব্যাপক ফলন হয় মুড়িখাটা এই পেঁয়াজ। কিন্তু পেঁয়াজের দরপতন ঘটে ব্যাপক ভাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এই উপজেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় দুইশ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। মুড়িখাটা এই পেঁয়াজ জমি থেকে ওঠার সময় শুরুতে ৫০-৬০ টাকা কেজি থাকলেও ক্রমেই এর দাম কমতে থাকে। বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি পেঁয়াজের হাটের জন্য বিখ্যাত তাহেরপুর ও শিকদারী হাটে গিয়ে পেঁয়াজের এই করুণ দরপতন লক্ষ্য করা যায়।
হাটে পেঁয়াজ নেয়ি আসা কৃষকরা জানান, এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে তাদের লাভ তো দূরের কথা খরচেই টাকাই ওঠবে না। বীজ থেকে শুরু করে সার সেচ কীটনাশক সহ সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদম খরচ পড়ে ৪০ টাকার ওপর।
মাড়িয়ার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন বেশ ভাল হয়েছে। তবে হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসে তিনি বিপাকে পড়েছেন। লুৎফরের মত ওই ইউনিয়নের শত শত কৃষকের একই পরিনতি হয়েছে।
শিকদারী হাটে পেঁয়াজ কিনতে আসা বেপারী রুবেল মিয়া জানান, পেঁয়াজের ব্যাপক দরপতন হওয়ায় তারাও পেঁয়াজ রপ্তানী করে পরিবহন সহ অন্যান্য খরচ মিটিয়ে খুব একটা লাভ করতে পারছেন না। কোন রকম ব্যবসার হাল ধরে আছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবদি আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বছর পেঁয়াজের দর উর্দ্ধগতি হওয়ায় এবার পেঁয়াজ চাষে ঝুকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা বিনা মূল্যে সার দেওয়া দেয়া হয়। ফলে এই উপজেলায় পেঁয়াজ চাষ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তার মতে মুড়িখাটা পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না বিধায় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫ | সময়: ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর