বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মেহেদী হাসান, পুঠিয়া: রাজশাহীতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের হাওয়া। দিনক্ষণের ঘোষণা না এলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মুখিয়ে আছে বিএনপি ও জামায়াত। রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মাঠে তৎপর বিএনপির প্রায় তিন ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে, নানা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে পাঁচটি আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, বাকিগুলোতে মনোনয়নে কাজ করছে দলটি। কেন্দ্র্রীয়ভাবে দলের অবস্থা যেমনই হোক না কেন, স্থানীয়ভাবে জাতীয় পার্টিরও কয়েকজন নির্বাচনী প্রস্ততি শুরু করেছেন। তবে খোঁজ নেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। একের পর এক মামলার চাপ আর গ্রেফতার আতঙ্কে লাপাত্তা তারা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজশাহীর পাঁচটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার রাজশাহী মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজশাহীর ৫টা আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী অঞ্চলের অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক ইসলাম দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তবে একটা আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি বলে জানান রাজশাহী মহানগর জামায়া ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আশরাফুল আলম ইমন।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন রোববার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রার্থী ঠিক করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী বোর্ড কাজ করছিল। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডই রোববার পাঁচটি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। রাজশাহী-২ (সদর) আসনে এখনও দলটির পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ও এ আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান; রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে দলটির নেতা ডা. আবদুল বারী সরদার, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে জেলার সহকারী সেক্রেটারী নুরুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জেলার আরেক সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক নাজমুল হক দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে রাজশাহী সদর আসনে কেন দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এ আসনে সাম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, সাবেক সেক্রেটারী ডা. জাহাঙ্গীর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনের নাম রয়েছে আলোচনায়।
বিএনপি নেতাদের প্রার্থীদের নির্বাচনি তৎপরতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, বিএনপির হাইকমান্ড এখনো মনোনয়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ, আমরা এখন দল গোছাতে ব্যস্ত রয়েছি। আমরা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
তবে বিগত ১৬ বছরে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন-মনোনয়নের ব্যাপারে তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।