সারাদেশে একযোগে ‘২য় স্বাধীনতার শহীদ যারা’ স্মারকের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক ‘২য় স্বাধীনতার শহীদ যারা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর নানকিং দরবার হলে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এছাড়া, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তন থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরীর আমীর মাওলানা ড. কেরামত আলী।
এই স্মারকের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীসহ দেশের ১১টি মহানগরে একযোগে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এই স্মারক প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনার বাস্তবায়ন করা হবে। যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তারা এখনো দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থেকে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারকে বলছি, সংস্কার দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। গণহত্যার বিচার নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন, ৩৮ হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছেন, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। ১৮ কোটি মানুষের দাবি, এই গণহত্যার বিচার সবার আগে সম্পন্ন করা হোক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর মাইন উদ্দিন, জামায়াতের রাজশাহী জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, নাটোর জেলা আমীর মীর নুরুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ড. কেরামত আলী বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আধিপত্যবাদী ও ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ভার্চুয়ালি স্মারকের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন, কিছু ইতিহাস আনন্দের, কিছু ইতিহাস গৌরবের, আবার কিছু ইতিহাস ঘৃণার। যে জাতি তার বীরদের সম্মান করতে জানে না, আল্লাহ তাদের সম্মান দান করেন না। ২০২৪ সালের আন্দোলনে পুরো জাতি ফ্যাসিবাদ ও জুলুমের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী শহীদ পরিবারের কাছে দোয়া নিতে গিয়েছে, দিতে নয়। শহীদদের পরিবার আল্লাহর বিশেষ সম্মানে সম্মানিত। ইতিহাসের এই স্মারক রচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ধাপে ধাপে প্রতিটি শহীদের তথ্য সংকলন করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের ভুলে না যায়।
স্মারক উন্মোচন উপলক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়ে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শহীদদের স্মরণে জামায়াতের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে শাহাদতবরণ কারীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। যথাযথ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে শহীদদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যা চালিয়েছিল, তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে হবে। বিচারব্যবস্থার সংস্কার দরকার, যাতে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আয়োজকরা জানান, স্মারকটিতে ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের তথ্য সংকলন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। স্মারকের মোড়ক উন্মোচনের পর গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই স্মারক ভবিষ্যতে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আরও গভীরভাবে গবেষণা ও সংরক্ষণের কাজে সহায়তা করবে।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫ | সময়: ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ