বাঘায় কিন্ডারগার্টেন গুলোয় শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে

নুরুজ্জামান, বাঘা:

শিশুরা পবিত্র ও নিষ্পাপ। শিশুরা মঙ্গলের কারণ, আনন্দের উপকরণ ও প্রেরণার উৎস। শিশু মানব জাতির অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শিশুর সুশিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে ওঠার জন্য এবং তাদের মনন ও মেধা বিকাশের জন্য মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই ।এ দিক থেকে অনেকের মতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয় এগিয়ে রয়েছে কিন্ডারগার্টেন।

 

সরেজমিন লক্ষ্য করা গেছে, বর্তমান অভিভাবকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে কিন্ডারগার্টেনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে বাঘায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন। এর মধ্যে অন্যতম ”ইকরা কিন্ডার গার্টেন।” এর অবস্থান বাঘা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত বাঘা পেট্রোল পাম্প থেকে ৫০ গজ দক্ষিনে। এই প্রতিষ্ঠানে বছরের প্রথমদিন বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ, স্বল্প পরিসরে বই ও পুরস্কার বিতরণ এবং মহাসমরহে পিঠা উৎসবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন সকল শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সু-শীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। এদের মধ্যে খাদিজা নামে এক অভিভাবক বলেন, এই স্কুলে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন বন্ধুত্ব কোলাহল এবং একে অপরের প্রতি ভাতৃত্ববোধ, ঠিক একই অবস্থা অভিভাবকদের মধ্যেও। আর এ গুলো সম্ভাব হয়েছে কেবল প্রতিষ্ঠান পরিচালক মন্ডলীর ঐক্লাতিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায়।

 

অপর একজন অবিভাবক গোলাম হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলছেন, একই বয়সী শিশুদের একই কারিকুলামে স্কুলিং টাইম বা বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন দুই রকম হওয়ার কথা নয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলিং টাইম দীর্ঘ হওয়ার কারণে পাড়া-মহল্লার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিশুদের ভর্তির দিকে ঝুঁকছেন অসংখ্য অভিভাবক।

 

এদিকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে পিঠা উৎসব ও বই বিতরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাঘা উপজেলা বিএনপির তিন বারের সফল সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, কিন্ডার গার্টেনকে শিশুদের প্রাক-বিদ্যালয় বলা হয়।একজন শিশু ছোট বেলায় যে শিক্ষা অর্জন করে, সেটি সারা জীবন তাদের মনে গেঁথে থাকে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই।

 

তিনি আরো বলেন, শিশুরা কিন্ডারগার্টেনে উপস্থিত হয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা-সহ একে-অপরের সাথে খেলাধুলা করবে এবং অন্যের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে উপযুক্ত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবে। আর শ্রেণীকক্ষে একজন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ সঙ্গে রাখবেন। অতঃপর উপকরণ গুলোর বাস্তবমূখী কলা-কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করবেন। তাহলে আজকের শিশু হবে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

 

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাঘা পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ তফিকুল ইসলাম (তফি), রাজশাহীর অন্যতম বিদ্যাপিট সারদা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকা জনাবা জেসমিন নাহার শেলী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক অধ্যাপক আলী আজম।

সানশাইন/রাজ


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৫ | সময়: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine