বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোরে সিএনজি চালক ও বাস শ্রমিকদের মাঝে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরীর রেলগেটে প্রায় ৮০টির অধিক সিএনজি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে সিএনজি চালকরা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তবে, পুলিশের হস্তক্ষেপে রাজশাহী থেকে সব গন্তব্যের বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। আগের দিন সোমবার সকালে রাজশাহীর তানোরে ছয়জন বাস শ্রমিককে মারধরের জেরে দুপুর থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে রাতে বাস চলাচল শুরু হলেও মঙ্গলবার সকালে তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
হামলায় আহত সিএনজি চালক আব্দুস সালাম জানান, প্রতিদিনের মত আমরা সিএনজি নিয়ে যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ বাস শ্রমিকের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য তাদের উপরে হামলা চালাতে শুরু করে। এতে প্রায় ৮০টি সিএনজি ভাংচুর করা হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ জনের অধিক সিএনজি চালক।
সিএনজি চালক হাসিবুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেন ৫০ থেকে ৬০ জন বাস শ্রমিকরা চারিদিক থেকে ঘিরে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে সিএনজি ভাঙ্গতে শুরু করে। আমারও সিএনজির উপর হামলা চালিয়ে কাচ ভাংচুর করেছে। এই সময় তাদের হাতে লাঠি, লোহার রড, হাতুড়ি ছিলো। একজনের হাতে পিস্তলও দেখা গেছে বলে জানান এই চালক। তারা এই ভাংচুর প্রায় আধাঘন্টা হতে চালিয়েছে। এতে প্রায় ৮০টি সিএনজি ভাংচুর করেছে।
সিএনজি চালকরা বলেন, তারা পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়েছে। গতকালকের তানোরের ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা এই ঘটনার ক্ষতিপূরণ ও হামলায় জড়িতদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত কোন রুটে বাস চলাচল না করতে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিএনজি মালিক সমিতির সহ-সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রায় ৮০টির অধিক সিএনজি বাস শ্রমিকরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। চালক প্রায় ৪০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আমরা এর ক্ষতি পূরণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এর সুষ্টু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হোক। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে কোন রুটে বাসচলাচল করতে দেবো না।
এই ঘটনার বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মেহেদী মাসুদ বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছি। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিক আলী পাখি বলেন, ‘ডিসি স্যার আমাদের নিয়ে বসেছিলেন। তিনি বলেছেন যে, তানোরে হামলায় আমাদের যেসব শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি আছে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আমরা একটা মামলা করেছি, ওই মামলা মামলার গতিতে চলবে। সে জন্য আমাদের শ্রমিকেরা বাস চালানো শুরু করেছেন।’
সোমবার ছয়জন বাস শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় রাতে তানোর থানায় ওই মামলা করা হয়। এতে আসামি হিসেবে ১৮ জন সিএনজি চালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও আসামি আছে। মামলার পর এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর তানোরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার শ্রমিকদের হামলায় পাঁচ বাস শ্রমিক আহত হন। এ ঘটনার পর সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকেরা নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় লাঠিসোটা হাতে রাস্তায় নামেন। তারা রাস্তার উপর এলোমেলো করে বাস রেখে সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে তাদের শান্ত করে এবং সড়ক ছেড়ে দেয়।