বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: মিজানুর রহমান, অফিস সহায়ক পদে এগার বছর ধরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কমিশনারের গোপনীয় শাখায় অডারলি হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ২০১৩ সালে তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ এর সময়ে এই অফিসে যোগদান করেন। মূলত মিজানুর রহমান রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব প্রশাসনের কর্মচারী। একই স্থানে তিনি এগার বছর ধরে কর্মরত আছেন বলে বিশস্ত সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। ১১ বছরে ৭ থেকে ৮ জনকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন তিনি।
আসলে মিজানুর রহমান রাজস্ব প্রশাসনের কর্মচারী। ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন আছে, ভূমি অফিসের স্টাফ, ভূমি অফিস ব্যাতিত অন্য কোথাও প্রেষনে কাজ করতে পারবে না। তার পরেও মিজান এতোদিন এখানে কিভাবে চাকরী করেন। সেগুলো খতিয়ে দেখার জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ করেন অভিযোগকারীরা।
একটি সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান চাকুরীদাতা মিজান ভাই নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ক্ষমতা দেখিয়ে তার পরিবারের সদস্য, এলাকা ও এলাকার বাহিরের অনেক লোককে অর্থের বিনিময়ে চাকুরী দিয়েছেন বলে অভিযোগও রয়েছে। এক কথায় তিনি চাকুরী বণিজ্যের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। একাধিক সূত্র বলছেন মিজানুর রহমানের পরিবারের সবাই এতটাই মেধাবী যে অত্র অফিসে তাদেরই চাকুরী হয়। অথচ এই অফিসে আরো অনেক লোক এই অফিসে কর্মরত আছেন। কিন্তু তাদের পরিবারের কেউ বিভাগীয় কমিশনার অফিসে চাকুরী করেন না।
উল্লেখ্য মিজান যাদেরকে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারা হলেন, মিজানের মামাতো ভাই খালেদ মোশারফ। তিনি একজন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে রাজশাহী জেলা প্রশাসকর কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখায় কর্মরত আছেন। রনি শেখ হলেন মিজানের খালাতো ভাই। তিনি অফিস সহায়ক হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায় কর্মরত আছেন।
এছাড়াও খালাতো বোন রিমা খাতুন। তিনি অফিস সহায়ক পদে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। আরেক খালাতো ভাই নাঈম সরকার, তিনি সার্টিফিকেট সহকারী হিসেবে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেনারেল সার্টিফিকেট শাখায় কর্মরত আছেন। আরেক খালাতো বোন হাবিবা ইয়াসমিন, তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার শাখায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন। মিজানের ভাবী (চাচাতো ভাইয়ের বউ) আকলিমা খাতুন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত আছেন। সব শেষ তার ভাগ্নে জিসান, তিনি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায় কর্মরত আছেন বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান এর জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জেলা প্রশাসক অফিসের স্টাফ। তিনি এগার বছর ধরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অফিসের প্রেষনে চাকরী করছেন। তার বদলী বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাল স্টাফ হওয়ায় তাঁকে বদলী করা হচ্ছে না। তবে তার চাকরী বদলী জনিত বলে স্বীকার করেন। অর্থের বিনিময়ে সাত থেকে আট জন তার ঘনিষ্ট এবং নিকট আত্মীয়কে চাকরী পাইয়ে দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। সেইসাথে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে জানান মিজানুর রহমান।