বাজারের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে বাঘাকে বলা হতো সবজি ভান্ডার। এর প্রধান কারণ, এ উপজেলার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বয়ে চলেছে পদ্মানদী। তার পাশ দিয়ে অবস্থান করছে বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চল। এই চরাঞ্চল জুড়ে উৎপাদন হতো হরেক রকম সবজি। কিন্ত এ বছর বন্যা দেখা দেওয়ার কারণে সবজি চাষে সকলেই পিছিয়ে পড়েছেন। এর কুফল হিসাবে একদিকে বন্ধ হয়েছে আমদানী, অপর দিকে বাজার মুল্য উর্ধগতি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দিশে হারা হয়ে পড়েছেন।
চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, আমরা ঝড়, বৃষ্টি-বাদল, বন্যা, খরা জলোচ্ছাস, ঘুর্নিঝড় সবকিছুর সাথে মোকাবেলা করে নাড়ির টানে পৈত্রিক ভিটাতে বসবাস করি। বন্যা আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়, তবে এবার বন্যার পানি নামতে একটু দেরি হওয়ায় শীতকালিন সবজি চাষে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। তবে নদীতে চর জেগে ওঠা মাত্র সকল প্রকার উৎপাদন শুরু করা হবে। এখানে চাষ করা হবে সকল প্রকার সবজি সহ সোনার ফসল। যা স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি আমদানী করা হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
চরবাসীরা জানান, এ অঞ্চলের কৃষকরা বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে নানা প্রকার সবজি চাষাবাদ করে স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি আমদানি করেন ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে এ বছর বন্যার পারি নিষ্কাশন হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় সকল সবজির দাম বেড়েছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্রেতাগণ। তবে সমতল এলাকায় বেগুন-পটল-মরিজ থেকে শুরু করে প্রায় সকল ফসল কম-বেশি চাষাবাদ হচ্ছে।
সরিজমিন বাঘা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাঘা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বেগুন ৯০ টাকা, আলু ৫৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ১২০ টাকা আদা ৬০ টাকা, রসুন ২৪০ টাকা মুলা ৪০ টাকা, লাউ ১ পিচ ৫০ টাকা, পেঁয়ে ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিচ, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, ফুল কফি ১০০ টাকা এবং পাতা কপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা জেজি।
এ বিষয়ে বাঘা হাটের সরচেয়ে বড় সবজি বিক্রেতা মানিক মিয়া জানান, আমাদের বাজারে তুলনা মুলক সকল সবজির দাম এখনো অনেকটা কম রয়েছে। এদিক থেকে শহরের অবস্থা খুবই করুণ। তার মতে, এ বছর বিভিন্ন এলাকায় অঝরে বৃষ্টি এবং বন্যা হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে। তবে সরকারি ভাবে মাঝে-মধ্যে বাজার মনিটরিং করলে সবজির দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসবে।
চরাঞ্চলের পলাশি ফতেপুরের কৃষক আনোয়ার শিকদার জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে শীত কালিন সবজি হিসাবে কফি এবং বেগুন চাষ করছেন। এগুলো আবাদের পুর্বে জমিতে লাঙলের পরিবর্তে বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হয়েছে। এর ফলে চাষাবাদের খরচ কমেছে। কিন্তু মাঝখানে নদীতে পানি বাড়ার কারণে বন্যায় তার ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
অপর একজন কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, আগের চেয়ে নদীত পানি করে গেছে। এর ফলে নেমে যাচ্ছে বন্যার পারি। এখন আমরা আলু, পেঁয়াজ ও রসুন চাষাবাদ করবো। এদিক থেকে এবার সবচেয়ে পেঁয়াজ এবং রসুনে ভাল ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু আমি নয়, আমার মতো চরাঞ্চলের সকল কৃষকই বর্তমানে নানা অর্থকারি ফসলের পাশা-পাশি বন্যার পানি কমে যাওয়ায় হারেক রকম সবজি চাষের দিকে ঝুকছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, চরের জমি খুবই উর্বর। এখানে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে যে কোন ফসল বেশি পরিমান চাষাবাদ হয়। এ কারণে কৃষকদের মাঝে ফসল ফলানোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তার মতে, গত কয়েক বছর ধরে সবুজের নীরব বিপ্লব ঘটেছে চরাঞ্চলে।
তিনি বলেন, উপজেলার সমতল এলাকার ৬ ইউনিয়ন এবং দুই পৌরসভা মিলে যে পরিমান সবজি চাষ না হয়, তার চেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় পদ্মার চরাঞ্চলে। এ জন্য তিনি কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৪ | সময়: ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ