, , ।
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: ‘ব্যাটারে তোক চাকরিত ক্যান পাঠানু, চাকরিৎ না গ্যালে তো এই কাম হইতো না। এখুন তোর লাশ লি’ তোর বউ আর শিশু ছাওয়ালের সামনে যাইয়ে কি কইরে খাড়া হবো। ছাওয়াল দুইডে একোন কা’ক বাপ ডাকপি, একন ওরে কি হবি রে আল্লাহ।’ বুক চাপড়ে বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর বাগমারার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাঁইপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ আকতার হোসেন। তিনি মঙ্গলবার নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় মঙ্গলবার ভোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আনোয়ার হোসেনের (৩০) চাচা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাতিজার লাশ নিতে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় এসে ভাতিজার লাশ দেখে এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
এ সময় আকতার হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে আনোয়ার হোসেন পটুয়াখালীতে একটি প্রকল্পে নতুন চাকরি পান। সেখানে যোগ দিয়ে সোমবার রাতে আরপি স্পেশাল পরিবহণে চড়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মঙ্গলবার ভোরে তার নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়ায় বাস থেকে নামার কথা ছিল। সেখান থেকে একাই বাড়িতে চলে যাবেন বলে মোবাইলে স্বজনদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাকে আর বাড়ি ফিরতে দিলো না।
আনোয়ারের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, সকালে থানা পুলিশের মাধ্যমে আনোয়ারের মৃত্যুর সংবাদ পান তারা। তার চাচী ফাতেমা বেগম বাবার বাড়িতে ছিলেন। সেখানেই মৃত্যুর খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন। স্বামীর শোকে তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বলে জানান মিজানুর। এখন লাশ নিয়ে যাবার পর তার স্ত্রী-সন্তানদের শান্তনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।