, , ।
আদমদীঘি প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা শাখায় গর্ভকালীন সেবা কার্ড দিতে উপকারভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নূরুল হুদা নামে এক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের বিরুদ্ধে এ অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি। গত রোববার দুপুরে হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা শাখায় সরেজমিনে গিয়ে এ অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নূরুল হুদা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা শাখায় কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, গর্ভকালীন সেবা কার্ড নিতে আসা নারীদের কাছ থেকে তিনি জনপ্রতি ২০০ টাকা করে গ্রহণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপকারভোগীদের বক্তব্যেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।
এদিকে কার্ডে সিল-স্বাক্ষর প্রদান এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী নূরুল হুদার ব্যবহৃত সিলে তাকে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পরিচয় দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া কার্ড লেখার কাজে বায়োফার্মার এক প্রতিনিধি রাজু আহম্মেদকে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।
কার্ড নিতে আসা লুৎফুন নেছা অভিযোগ করে বলেন, আগে কার্ড নিতে কোনো টাকা দিতে হয়নি। কিন্তু এখন টাকা ছাড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি বাইরে কাউকে না বলতেও বলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছি। আদমদীঘিতে সপ্তাহে এক দিন মঙ্গলবার যাই। আমার অফিসের স্টাফকে সেবা কার্ড প্রদানের অনুমতি দিয়েছি। তবে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনা সত্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অভিযোগের বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলে রাব্বী বলেন, আদমদীঘি হাসপাতাল হলেও পরিবার পরিকল্পনা শাখা আমার তত্ত্বাবধানের বাইরে। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।