, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: আবহমান বাংলার ঐতিহ্য আর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল নৌকা বাইচ। সভ্যতার বিবর্তনে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ এ উৎসবটি। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে নাটোরের বড়াইগ্রামের চেচুয়া নদীতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব। বাইচ উৎসব দেখতে বিলপাড়ের এ গ্রামে ঢল নামে দর্শনার্থীদের।
খাকড়াদহ পূর্বপাড়া যুব সমাজের উদ্যাগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বড়াইগ্রামের কচুগাড়ি কান্দিপাড়া গ্রামের একতা এক্সপ্রেস প্রথম, কচুগাড়ি উত্তরপাড়া গ্রামের রিয়াদ এক্সপ্রেস দ্বিতীয় ও কচুগাড়ি গ্রামের সোনার মদীনা তৃতীয় তৃতীয় হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বুধবার অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে প্রথম পুরষ্কার হিসাবে বড় আকারের ফ্রিজ, দ্বিতীয় পুরষ্কার ৩২ ইঞ্চি এলইডি মনিটর ও তৃতীয় পুরস্কার ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন তুলে দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ইসহাক আলী মজনু মাষ্টারের সভাপতিত্বে বিএনপি নেতা ও ধারাবারিষা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তানভীর রহমান বাচ্চু ও মোহাম্মদ আলী, চলনবিল প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আককাছ, ইউপি সদস্য সুজন আহম্মেদ ও সমাজসেবক সন্তু সরদার উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বাইচে নাটোর ও পাবনা জেলার ১২ টি বড়-মাঝারি নৌকা অংশ নেয়। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি নৌকায় ৫০-৬০ জন করে মাল্লা ছিলেন। পানিতে বৈঠা চালানোর ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাল্লাদের ইয়া আলী, হেঁইও হেঁইও …… ধ্বনির সঙ্গে আর শত শত মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা।
প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট স্থানের উভয় পাশে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা বাইচ উপভোগ করেন। বিলুপ্তপ্রায় এ নৌকা বাইচ উপভোগ করতে নাটোরের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপু ও পাবনার চাটমোহর উপজেলার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।