, , ।
সানশাইন ডেস্ক: সেচ কাজে আগামী ৫ বছরের মধ্যে কৃষকদের পাম্পে ডিজেলের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগের কথা শোনান। সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, সেচ কাজে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনামূল্যে সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, “জি, বর্তমান সরকারের এ পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে যেখানে ডিজেল দ্বারা পানির পাম্প চালিত হয়, সেখানে সবগুলোকে পর্যায়ক্রমে ইনশাল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা সৌর বিদ্যুতে নিয়ে যাব।” স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম আধা ঘন্টা ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোকালপর্ব। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তিনটা প্রশ্ন ও সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ হতে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
সেক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ হতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার, অ্যাগ্রিভোলটেইক্সের মতো উৎস থেকে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সরকার ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যের (সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, স্ট্যাকচার) উপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়েছে।”
সরকারপ্রধান বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে যেসব গ্রাহক আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী ৩ বছর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য হিসেবে ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে পাবেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সরকারের নীতিমালা জারির তথ্য তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি আছে। একটি হচ্ছে, লেড ব্যাটারি, যেটাতে নরমাল ট্রেডিশনের ব্যাটারি, আরেকটা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি, যেটা পরিবেশবান্ধব। “আমরা বর্তমান সরকার লিথিয়াম এনকারেজ করার চেষ্টা করছি। লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তৈরির ক্ষেত্রে যেসব কলকারখানা স্থাপিত হবে সেটিকে সরকার সব রকমের সহযোগিতা দেবে।”