, , ।
শাহজাদপুর প্রতিনিধি: শাহজাদপুরে বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারিবাড়ীতে সরকারি কোন প্রকার কর্মসূচি ছাড়ায় নীরবে নিভৃতে চলে গেলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ৮৫তম মহাপ্রয়াণ দিবস।
২২ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার ৬আগষ্ট রবীন্দ্র কাছারীবাড়ী ছিল সুনসান নীরবতা, ছিল না কোন সরকারি ভাবে কর্মসূচি। তবে বিভিন্ন সাংষ্কৃতিক সংগঠন ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কবির প্রয়াণ দিবসকে স্মরণ রাখতে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করেছে।
এব্যাপারে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ীর কাস্টোডিয়ান শাওলী তালুকদার জানান, প্রয়াণ দিবসে সাংস্কৃতিক মন্ত্রাণালয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর কতৃক কোন চিঠি বা আদেশ না থাকায় সরকারি ভাবে কোন কর্মসূচি অনুষ্ঠান পাতিত হয় নি।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে শাহজাদপুর কবিগুরুর সৃষ্টিশীল জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়, যে কাছারিবাড়ি তাঁর স্মৃতিকে আজও ধারণ করে আছে। সেই স্থানেই তাঁর প্রয়াণ দিবস উপেক্ষিত! এটি শুধু শাহজাদপুরবাসীর নয়, সমগ্র বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাকেই আহত করে।এ কি শুধু একটি অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতি? নাকি আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা, ঐতিহ্য ও দায়বদ্ধতার প্রতি চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ? কারণ রবীন্দ্রনাথ কোনো প্রতিষ্ঠানের একার নন, তিনি আমাদের আত্মার, আমাদের সংস্কৃতির, আমাদের অস্তিত্বের অংশ।
অপরদিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম মহাপ্রয়াণ দিবস রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এ স্থাপিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সোবাহান।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত), বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলসমূহের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান দেবশ্রী দোলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সোবাহান। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোমেনুর রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সোবাহান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির নন, তিনি বিশ্বমানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর সাহিত্য, দর্শন, শিক্ষা-চিন্তা এবং মানবকল্যাণের আদর্শ আজও আমাদের ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল চেতনাই রবীন্দ্র-ভাবধারার বিকাশ, গবেষণা ও চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের রবীন্দ্রচর্চার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপ-উপাচার্য মহোদয় বলেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আমাদের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্র-দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্যের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জীবন, কর্ম ও দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।