, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা শুধু আর্জেন্টিনা-স্পেন লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই মহারণকে ঘিরে ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। কারণ, বিরতির বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের প্রধান শিল্পী হিসেবে থাকছেন বিশ্বখ্যাত পপতারকা শাকিরা। আর সেই ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেন তার সাবেক সঙ্গী জেরার্ড পিকে ও বর্তমান সঙ্গী ক্লারা চিয়াও।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পিকে ও ক্লারা চিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একসঙ্গে দেখা গেছে। একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার সময় তাদের ছবি পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লারা চিয়াকে ভক্তদের সঙ্গে পিকের ছবি তুলতেও দেখা গেছে। এরপর থেকেই জোরালো হয়েছে গুঞ্জন। স্পেনকে সমর্থন জানাতে তারা বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকতে পারেন। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন পিকে। সে কারণে ফিফা কিংবা রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণে ভিআইপি বক্সে তার উপস্থিতি অস্বাভাবিক কিছু হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শো আয়োজন করছে ফিফা। সেই মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ শাকিরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’ গাওয়া এই কলম্বিয়ান তারকার সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন ম্যাডোনা, বিটিএস এবং জাস্টিন বিবারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও। পুরো আয়োজনের সৃজনশীল পরিচালনায় রয়েছেন কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন।
শাকিরা ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কে তার দুই ছেলে মিলান ও সাশাকে নিয়ে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি উগান্ডার জনপ্রিয় শিশু নৃত্যদল ঘেট্টো কিডস-এর সদস্যদের সঙ্গেও ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। তারাই হাফটাইম শোর অংশ হিসেবে পারফর্ম করবে।
সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়, যদি পিকে সত্যিই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকেন, তাহলে বহু বছর পর একই ভেন্যুতে দেখা যেতে পারে শাকিরা ও তার সাবেক সঙ্গীকে। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময়ই তাদের পরিচয় ও প্রেমের শুরু, আর ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও দুজনের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এদিকে শাকিরা আরেকটি অনন্য রেকর্ডও গড়তে চলেছেন। তিনি হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের একমাত্র শিল্পী, যিনি চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে পারফর্ম করবেন। ২০০৬ সালে জার্মানিতে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০ সালে বিশ্বকাপের বিখ্যাত সংগীত ‘ওয়াকা ওয়াকা’, ২০১৪ সালে ‘লা লা লা’এবং ২০২৬ সালে ‘দাই দাই’ ও প্রথম হাফটাইম শোর প্রধান শিল্পী হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের অনন্য যাত্রা আরও সমৃদ্ধ করবেন।