বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: নকআউটে যেতে হলে জিততেই হবে—এমন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নেমেও উরুগুয়ে দেখাতে পারলো না কোনো প্রতিরোধ। অন্যদিকে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের চেনা ছন্দ বা সেরা রূপটা পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি স্পেনও। তবে সেরাটা দিতে না পারলেও ঠিকই নিজেদের মূল লক্ষ্য পূরণ করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। উরুগুয়েকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট কাটলো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গুয়াদালাহারায় বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ীরা। একমাত্র গোলটি করেছেন অ্যালেক্স বায়েনা।
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের সেরা স্পেন। তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে এবারের আসরের বিস্ময় কেইপ ভার্ড। ২ পয়েন্ট করে পাওয়া উরুগুয়ে ও সৌদি আরব বিদায় নিয়েছে। পুরো ম্যাচে গোলের জন্য ছয়টি শট নিয়ে শুধু একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। উরুগুয়ের পাঁচ শটের একটি লক্ষ্যে ছিল। শুরু থেকে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও এগিয়ে ছিল স্পেন। কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। প্রথম ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ এর আগে তারা গোলের জন্য দুটি শট নিতে পারলেও কোনোটি লক্ষ্যে ছিল না। ৪২তম মিনিটে লক্ষ্যে ম্যাচের প্রথম প্রচেষ্টায় এগিয়ে যায় স্পেন। ডান দিক থেকে মার্কোস ইয়োরেন্তে পাস দেন বক্সে। অ্যালেক্স বায়েনার ডান পায়ের শট গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরা দুই হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেও, তা ফসকে গড়িয়ে জালে জড়ায়। বিশ্বকাপে ২৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের প্রথম গোল এটি।
তিন মিনিট পর উরুগুয়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হাঁটুতে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন দলটির ডিফেন্ডার মানুয়েল উগার্তে। প্রথমার্ধের ওই ভুলের কারণেই কি না, দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষক মুসলেরাকে আর নামাননি উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা! বদলি নামেন সের্হিও রোচেত। ৬৩তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন দানি ওলমো। বাঁ দিক দিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ফাঁকায় ওলমোকে খুঁজে নেন লামিন ইয়ামাল। কিন্তু উড়িয়ে মারেন ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ৮৬তম মিনিটে প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারে উরুগুয়ে। দে লা ক্রুসের শট ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমন। পরের মিনিটে বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে ফেররান তরেসের শট ক্রসবারে লাগে। যোগ করা সময়ে ফেদেরিকো ভিনাস স্পেনের বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে উরুগুয়ে। কিন্তু তাদের দাবি নাকচ করে দেন রেফারি। শেষ সময়ে পাউ কুবার্সিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের কানোবিও। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুইবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।