বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন এই বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এই বিশাল ব্যয়ের চাপ ও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেট-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। জুলাই থেকেই সরকারি কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন।” অর্থ মন্ত্রণালয়ের খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বর্ধিত বেতন কার্যকর করা হবে। তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করে পূর্ণ কাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন বাজেটের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অন্যদিকে বাজারে মূল্যস্ফীতির অতিরিক্ত চাপও কিছুটা কমবে। এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত থাকছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।