জীবন বীমা কর্পোরেশনের কর্মী পলাতক: ভূয়া রশিদে ৭ গ্রাহকের ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে জীবন বীমা কর্পোরেশন-এর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ৭ জন গ্রাহকের প্রায় ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৫২২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নগরীর রাজপাড়া থানা ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজশাহী রিজিওনাল অফিসের উন্নয়ন ম্যানেজার মো. মোকছেদুল হকের মাধ্যমে ৭ জন গ্রাহক পেনশন বীমা চালু করেন। পরে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা গ্রহণ করলেও তা অফিসে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং গ্রাহকদের ভূয়া রশিদ প্রদান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন পর তারা জীবন বীমা কর্পোরেশনের অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তাদের জমাকৃত অর্থের কোনো হিসাব অফিসে নেই। এরপরই প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তুনশ্রী প্রামাণিকের ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৮ টাকা, আনন্দ কুমার প্রামাণিকের ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, প্রতিমা নন্দীর ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, অসীম কুমার দাসের ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা, মো. মেহেদী হাসানের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ টাকা, মো. আশরাফুল ইসলামের ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ টাকা এবং মো. মনিরুজ্জামানের ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৮ টাকাসহ মোট ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৫২২ টাকা অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা নানা আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী অসীম কুমার দাস বলেন, “আমরা অনেক ভরসা করে জীবন বীমায় ভবিষ্যতের কথা ভেবে টাকা জমা রেখেছিলাম। কিন্তু তাদেরই একজন ম্যানেজার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ভূয়া রশিদ দিয়ে টাকা নিয়ে তা আত্মসাত করেছে। আমরা এর বিচার চাই, আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত চাই।”
আরেক গ্রাহক আনন্দ কুমার প্রামাণিক বলেন, “জীবন বীমা একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ভেবেই আমরা সেখানে হিসাব খুলেছিলাম। কিন্তু প্রতিষ্ঠানেরই একজন কর্মকর্তা আমাদের টাকা আত্মসাত করেছে। এখন আমরা দ্রুত টাকা ফেরত চাই।”
গ্রাহকদের দাবি, অভিযোগের পর অভিযুক্ত ম্যানেজার মোকছেদুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়। সেখানে এক মাসের মধ্যে আত্মসাত করা ২৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দুই মাস পার হলেও কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জীবন বীমা কর্পোরেশনের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোমিনুল ইসলাম বলেন, “অফিসিয়াল প্রসিডিউর অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। সাবেক ম্যানেজার মোকছেদুল গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত লেনদেন করেছেন। তিনি অফিসে টাকা জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখেছেন। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি হেড অফিসে জানানো হয়েছে। নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে মোকছেদুল হক অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অসুস্থতার কথা বলে এপ্রিল মাসে অফিসে না এসে পরবর্তীতে তিনি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। তার সন্ধানে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬ | সময়: ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ