সর্বশেষ সংবাদ :

মাঠে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

রানা হামিদ, বদলগাছী: নওগাঁর বদলগাছীতে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে কৃষক। উপজেলার মাঠগুলোতে সারি সারি ধান পেকে রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে সোনার ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে এ উপজেলায় ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও খুব ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ মণ।
সোমবার ১১ মে পর্যন্ত চার হাজার ছয়শত আশি হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। যা মোট আবাদি জমির শতকরা ৪০ ভাগ। এখনো সাত হাজার বিশ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা অবশিষ্ট রয়েছে। যা মোট আবাদী জমির শতকরা ৬০ ভাগ।
অফিস আরো জানায়, এ উপজেলায় কম্বাইন হারভেস্টর রয়েছে সাতটি। কিন্তু চালু রয়েছে পাঁচটি। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। আবার কম্বাইন হারভেস্টরে কৃষকদেরও কিছুটা অনাগ্রহ থাকার কারণে এই যন্ত্রের পুরো উপযোগিতা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
বদলগাছী সদর ইউনিয়নের জাইজাতা গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন বোরো ধানের আবাদ করেছেন ২২ বিঘা জমিতে। সব ধান পেকে গেলেও সোমবার ১১ মে পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটেছেন।
তিনি বলেন, প্রতি বছর পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চিলাহাটি থেকে পর্যাপ্ত শ্রমিক আসতো। ফলে ধান কাটার তেমন কোনো সমস্যা হাতো না। কিন্তু এ বছর বাহিরের শ্রমিক আসেনি বললেই চলে। আর স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে সময়মতো ধান ঘরে তোলা সম্ভব নয়। আবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বলছে বৃষ্টি হবে। তাই সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
উপজেলার বালুভরা গ্রামের কৃষক মজিদুল ইসলাম বলেন, চার ভাই মিলে ১৮ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। সাত দিন ধরে ঘোরার পর আজ থেকে ১০ জন শ্রমিক ধান কাটছে। জমির ধরনভেদে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা করে বিঘা প্রতি খরচ দিতে হচ্ছে। বহিরাগত শ্রমিক না আসার কারণে এবার শ্রমিকের সমস্যা বেশি এবং মজুরীও বেশি দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, এ উপজেলার আবহাওয়া ও জলবায়ু বোরো ধান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ফমনও খুব ভালো হয়েছে। তবে বর্তমান আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে সঠিক সময়ে ধান ঘরে তোলা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কম্বাইন হারভেস্টর দ্বারা ধান কর্তনের বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মৌসুমী শ্রমিক তৈরির জন্য যুবকদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে উঠান বৈঠক, কৃষক মাঠ স্কুল, কৃষক তথ্য পরামর্শ কেন্দ্র ও সর্বোপরি সূধীজনদের সাথে নিয়মিতভাবে মতবিনিময় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তাদের মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে ধান কর্তনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন বেকারত্ব সমস্যা কিছুটা সমাধান হবে, অন্যদিকে কৃষকগণ সময়মতো তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
শ্রমিক সংকট বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে এলাকার যুব সমাজকে উৎসাহিত করবো যাতে তারা কৃষকদের ধান ঘরে তুলতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও কৃষি কর্মকর্তা ও সুধীজনের সাথে পরামর্শ করে শ্রমিক সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: May 13, 2026 | সময়: 4:25 am | সুমন শেখ