, , ।
ওমর ফারুক, আত্রাই: আজ ৮ মে, ২৫ বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর কাচারিবাড়িতে এ উপলক্ষে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতিবারের ন্যায় এবারও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হচ্ছে কবির জন্মোৎসব।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নাগর নদীর তীরে অবস্থিত এই পতিসর ছিল কবিগুরুর নিজস্ব জমিদারি। ১৮৯১ সালে জমিদারি পরিচালনার জন্য তিনি প্রথম এখানে আসেন এবং শেষবার আসেন ১৯৩৭ সালে। পতিসরের কুঠিবাড়িতে এবং নাগর নদীতে ‘পদ্মা বোটে’ অবস্থানকালে কবি সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য কালজয়ী কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ‘বিদায় অভিশাপ’ কাব্যনাট্য। ছিন্নপত্রের অনেক চিঠিও তিনি এখান থেকেই লিখেছিলেন।
কেবল সাহিত্য নয়, পতিসরের প্রজাদের কল্যাণেও কাজ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। নোবেল বিজয়ী কবি তাঁর প্রাপ্ত অর্থের এক লাখ টাকা দিয়ে এই জনপদের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে প্রথম ‘কৃষি ব্যাংক’-এর আদলে কার্যক্রম শুরু করেন। এছাড়া পতিসর ও কালিগ্রামে দুটি পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন তিনি, যা আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
এবারের উৎসবে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, জাতীয় সংসদের সরকারি দলীয় হুইপ এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দলু এমপি এবং নওগাঁর সংসদ সদস্যরা। প্রধান আলোচক হিসেবে থাকছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিথিদের বরণ করতে প্রস্তুত পতিসরের ‘দেবেন্দ্র মঞ্চ’। কবিগুরুর জন্মদিনকে ঘিরে আশপাশের প্রতিটি গ্রামে এখন আত্মীয়-স্বজনের পদচারণায় মুখরিত। বাড়িতে বাড়িতে চলছে অতিথি আপ্যায়নের ধুম। পতিসরে বসেছে রকমারি পণ্যের গ্রামীণ মেলা। ১৯৯৩ সাল থেকে এখানে জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই মেলা ও উৎসব এলাকার মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় মনিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন বলেন, রবীন্দ্রনাথ এই পতিসরে আধুনিক কৃষি ও সমবায় ব্যাংকের প্রবর্তন করেছিলেন। কবির সেই অবদান ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এলাকাবাসী প্রতি বছর এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন ও রবীন্দ্র গবেষক এসএম ফারুক বখত স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারই সর্বপ্রথম পতিসরে রাষ্ট্রীয়ভাবে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘদিন পর আবারও বর্তমান বিএনপি সরকারের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে এই উৎসব হচ্ছে, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা পতিসর কাচারি বাড়ির প্রয়োজনীয় সংস্কার সহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিñিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় আয়োজন সফল করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। আমরা পতিসরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে এই আয়োজনকে সফল করতে বদ্ধপরিকর।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, পতিসরের মাটি ও মানুষের সাথে কবিগুরুর আত্মিক সম্পর্ক আজ সর্বজনবিদিত। এবারের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তীতে মন্ত্রী মহোদয়গণ এবং বরেণ্য অতিথিদের শুভাগমন আমাদের এই আয়োজনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন সহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই উৎসবটি সার্থক ও স্মরণীয় হয়ে উঠবে। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই পতিসর আজও আমাদের প্রেরণার উৎস।