, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
খেলার বয়স এখনো শুরু হয়নি। কথা জড়িয়ে আসে, হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যায় আদিল। বয়স মাত্র দুই বছর । অথচ এই কোমল বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে।
এই জটিল রোগের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা ব্যয়ে প্রয়োজন প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্ত অর্থের অভাবে থেমে আছে চিকিৎসা। একমাত্র সন্তানের জন্য সম্পূর্ণ দিশে হারা বাবা-মা সহ বৃদ্ধ দাদিমা।
আদিলের বাবা মনিরুল ইসলাম মানসিকভাবে অসুস্থ, মা লিজা খাতুন স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন। সংসারে নিয়মিত আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। যা সামান্য উপার্জন হয়, তা দিয়ে কেবল কোনোমতে দিন চলে। বসতভিটা ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের নওটিকা গ্রামের এই পরিবারটির বসবাস ।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ আদিলের পেট অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে ওঠে। প্রথমে তাকে স্থানীয় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে ভয়াবহ এই রোগ।
মাঝে মাঝেই তীব্র ব্যথায় কেঁদে ওঠে আদিল। পরিবারের কেউ তাকে কোলে নিলেও কান্না থামে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার একটি কিডনিতে টিউমার ধরা পড়েছে এবং সেখান থেকেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে কিডনিটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, তবে খুব শির্ঘই তাকে অপরেশন করতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, ঐষধ খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিডনিটি যদি কিছুটা সুস্থতার লক্ষণ দেখায়, তাহলে চার সপ্তাহ পর টিউমার অপসারণ করে কিডনি রাখার চেষ্টা করা হবে। আর যদি উন্নতি না হয়, তাহলে টিউমার-সহ পুরো কিডনি অপসারণ ছাড়া উপায় থাকবে না। এই জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা ব্যয়ে প্রয়োজন প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা আদিলের পরিবারের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব না।
এক সমিক্ষা বলছে, আমাদের দেশে ছোট শিশুদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রায়শই মর্মান্তিক, তবে আধুনিক চিকিৎসায় বর্তমানে প্রায় ৮৫% শিশু ৫ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকে । সবচেয়ে সাধারণ ধরনের মধ্যে রয়েছে লিউকেমিয়া, মস্তিষ্কের টিউমার এবং লিম্ফোমা । প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্রমাগত ওজনের কমে যাওয়া, ক্লান্তি, হাড় বা জয়েন্টে ব্যথা এবং অস্বাভাবিক ফোলাভাব অন্যতম ।
এদিকে আদিলের দাদী মুল্লিকা বেগমের কণ্ঠে শুধু কান্না আর আকুতি। স্বামী বহু আগেই মারা গেছেন। বড় ছেলে ‘মিশন’ কয়েক বছর আগে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। পরিবারের ভরসা বলতে এখন শুধু অসুস্থ একমাত্র নাতি। তিনি বলেন, আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই। কোথায় গেলে, কার কাছে গেলে সাহায্য পাব বুঝতে পারছি না। আপনারা এই সমাজে যারা বিত্তবান মানুষ রয়েছেন তাঁরা আমার নাতিকে বাঁচান।
এই আর্তনাদ শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি আমাদের মানবতার প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা। সামান্য সহযোগিতা, একটু সহমর্মিতা, হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর জীবন ও হাসি।
সহযোগিতা ও যোগাযোগ :
বিকাশ ও নগদ: ০১৭৭৪৩৪৫১৫২
নওটিকা,বাঘা-রাজশাহী ।
সানশাইন /শামি