বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের উদ্যোগে ‘শুরুর উচ্ছ্বাস, বিদায়ের আবেগ, সাফল্যের স্বীকৃতি’ শিরোনামে নবীনবরণ, বিদায় ও অ্যাডভোকেট সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষ অসুস্থ হলে যেমন চিকিৎসকের কাছে যায়, তেমনি বিপদে পড়লে আইনজীবীর শরণাপন্ন হয়। তাই আইন পেশা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন আইনজীবীকে সব বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিয়ে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় তিনি তাঁদের অভিনন্দন জানান এবং এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ‘৩৬ জুলাই’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হঠাৎ করে হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। ৩৬ জুলাইকে বাদ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষের ওপর চেপে থাকা এক ধরনের জগদ্দল পাথর অপসারিত হয়েছে। এই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন ছাত্রসমাজ, তবে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে তা স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম। তিনি বলেন, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটি পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এখানকার শিক্ষকরা গুণগত শিক্ষা প্রদান করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ছায়েদুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এখানে একটি আধুনিক মুট কোর্ট রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী আইনি শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনবে এবং নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে সমৃদ্ধ করবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিএসসির পরিচালক ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাসরিন লুবনা এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সামিমা সুলতানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক সামিয়া হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর আনসার উদ্দিন, রেজিস্ট্রার ড. আজিবার রহমান, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আ. ফ. ম. মহসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বার কাউন্সিলে উত্তীর্ণ নবীন আইনজীবীরা। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।