, , ।
জুলইকরাম ফেরদৌস: চলতি বছরের ২১ আগস্ট ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বর্ষণে দেশের পূর্বাঞ্চলের ফেনী ও নোয়াখালীসহ ১১ জেলার ৭৭ টি উপজেলা এবং ৫০৪টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যার পানি বুক পর্যন্ত উঠে যাওয়ায় এক কাপড়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় লাখো মানুষ। দূষিত পানি পান এবং জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলাফেরা করার কারণে পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশাল চিকিৎসা সংকটে পড়েছে বন্যার্তরা। মৃত্যু এড়াতে শিঘ্রই বন্যার্তদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অতি প্রয়োজনীয়।
বন্যা কবলিত এলাকায় বেড়িয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন, সঙ্গে দেখা দিচ্ছে রোগব্যাধি। ডায়রিয়া, চুলকানি, ঘা-পাচড়া,জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বন্যার্তরা। বিগত কয়েক দিন থেকে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করায় ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, কুমিল্লাসহ বন্যা কবলিত জেলায় শিশু ও বয়স্করা জ্বর সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তথ্যসূত্রে জানা যায় চারদিক পানিতে তলিয়ে থাকায় বন্ধ আছে অনেক কমিউনিটি ক্লিনিক। পর্যাপ্ত ঔষধ ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন্যার্তরা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১২ জেলায় ৬১৯ টি মেডিকেল টিম কর্মরত রয়েছে। অন্যদিকে বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তেই আছে। ৩১ আগস্ট শনিবার বিকাল পর্যন্ত মোট ৫৯ জন মারা গেছে বলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪১ জন, নারী ৬ ও শিশু ১২ জন। এমতাবস্থায় বন্যার্তদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা আবশ্যক।
বন্যা কবলিত এলাকায় ৬১৯টি মেডিকেল টিম কর্মরত থাকলেও পানির কারনে গ্রামে গ্রামে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলার সিভিলে সার্জন শিহাব উদ্দিন। তিনি জানায় যে ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগি তারা বেশি পাচ্ছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৯৫ টি পরিবার এখনো পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৬৩ জন। চিকিৎসা সংকটে পড়েছে শিশু বৃদ্ধসহ সকলেই। বন্যা যেন এক মহামারীতে রূপ ধারণ করেছে। এই মহামারী দূর করতে সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। মৃত্যু এড়াতে সঠিক চিকিৎসা বন্যার্তদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং চিকিৎসা সংকট দূর করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।