সর্বশেষ সংবাদ :

“সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলেই মিথানল বিষক্রিয়া প্রানঘাতী

স্টাফ রিপোর্টার: মিথানল ও অ্যালকোহল- বিষক্রিয়াই স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ শীর্ষক কর্মশালা শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অধীনে এবং টক্সিওলোজি সোসাইটি বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন যে, ৩ কারণে আক্রান্তদের সঠিক তথ্য ওঠে আসছে না, ঘটছে মৃত্যু। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলেই মিথানল বিষক্রিয়া প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দেয়। কর্মশালায় দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং জনসচেতনতার বিষয়ে তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন সামাজিক লজ্জা, আইনি বিধিনিষেধ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ঘাটতির কারণে সঠিকভাবে ওঠে আসছে না ভেজাল মদ ও মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের সংখ্যা। ফলে অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন। কিন্তু সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিলে এই রোগীরা সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারতেন। ‘মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল-সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবেলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য ওঠে আসে। ।
কর্মশালায় উঠে আসে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে চলমান গবেষণার তথ্য। এখন পর্যন্ত ৩৫ জন রোগীকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক এম এ ফয়েজ জানান, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। তিনি বলেন, পুরো জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদ্যপানের হার নগন্য। এর মধ্যে মিথানল বিষক্রিয়া বা ভেজাল মদজনিত বিষক্রিয়া আরও কম। তবে এই বিষক্রিয়ার সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা জরুরি। প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে সবসময় এই ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয় না।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আরও বলেন, নানা কারণে রোগীরা সামনে আসতে চায় না। এছাড়া যারা মদে ভেজাল করছে, তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা বা যেখানে প্রচলিত মদের অভাব আছে, সেখানে ভেজাল কার্যক্রম চালু থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আক্রান্তরা যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিত, সুস্থ হয়ে উঠতে পারতেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফজলে রাব্বি চৌধুরী মিথানল বিষক্রিয়ার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীনের সঞ্চালনায় রজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. খন্দকার মো. ফায়সাল আলম এবং পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদুল ইসলাম এবং উপাধ্যক্ষ ডা. মো.জহিরুল হক এর উপস্তথিতিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ)মহিনুল হাসান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী মেহেদী হাসানসহ, ৩ জেলার ইউএইচএফপিও এবং আরো উপস্থিত ছিলেন ফরেনসিক বিভাগের ডা. মো. কফিল উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, ডা. জেনেট পারকিনস, আলিফা আহমেদসহ চিকিৎসক বৃন্দ।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রান্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ ও জরুরি ইথানল সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মিথানল বিষক্রিয়া প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের জীবন বাঁচানো সম্ভব।


প্রকাশিত: April 12, 2026 | সময়: 3:34 am | সুমন শেখ

আরও খবর