বাগমারায় গো খাদ্যের সংকটে বিপাকে কৃষক

বাগমারা প্রতিনিধি: উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি খড়ের দামও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কচুরীপানা সহ বিনামূল্যের গোখাদ্যের প্রতি ঝুকছে কৃষক। গোখাদ্যের এই সংকটের কারণে গাইগরুর দুধের পরিমান কমে গেছে। পাশাপাশি মোটাতাজাকরণ খামার মালিকরাও গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামার পরিচালনা করতে হিমসিম খাচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার গরু ও ২৭২টি মহিষ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার সর্বত্রই গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলাব্যাপি গোখাদ্যের সংকটকে পুজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পাশ্ববর্তী নাটোর জেলার চলনবিল এলাকা থেকে কম দামে খড় এনে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে কৃষকরা গবাদি পশু পালন করতে হিমসিম খাচ্ছে।
উপজেলার মাড়িয়া এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, গত বছর আমনের ফলন কম হওয়ায় খড়ের ঘাড়তি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তার আটটি গরুর জন্য দুই বোঝা (আটি) খড় লাগে। বর্তমানে যেসব কৃষকের ঘরে বেশি খড় আছে তাদের কাছে থেকে এক বোঝা খড় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাও ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না।
গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে অনেকে কচুরীপানা ও কলা গাছ কেটে খাওয়ানো হচ্ছে। উপজেলার মাঠে মাঠেও এখন ঘাস মিলছে না। হামিরকুৎসার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তার সাতটি গরু রয়েছে। বেশি দামে খড় কিনে খাওয়াতে না পারায় তিনি গত সপ্তাহে দুটি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। তারপরও বাকি গরুগুলোকে বেশি দামে খড় কিনে খাওয়াতে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। খড় বিক্রেতা আনোয়ার জানান, তিনি পাশবর্তী নাটোরের সিংড়া থেকে খড় এনে ছোট বোঝা ৪০০ এবং বড় বোঝা ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ভাল লাভ হওয়ায় তিনি খড়ের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিব জানান, বর্তমানে গোখাদ্যের কিছু সংকট থাকতে পারে তবে অনেক এলাকায় বিকল্প খাদ্য হিসাবে কচুরীপানা ও কলা গাছ খাওয়াতে দেখা যাচ্ছে।


প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬ | সময়: ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর