, , ।
আসাদুজ্জামান মিঠু: তানোর(রাজশাহী) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুয়ায়ী সংসদ নির্বাচনের এখনও প্রচারণা শুরু হয়নি। তবে, প্রচারণা প্রাধান্য পেয়েছে গণভোটের। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী শহর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে একেবারে গ্রামের প্রত্যান্তঞ্চলেও চলছে গণভোটের ব্যাপক প্রচারণা।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য মতে, ৭ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি টানা ১০ দিনের কর্মসূ০চির মাধ্যমে গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ কর্মসূচির মধ্যে একেক দিন একেক ভাবে প্রচারণা করা হচ্ছে। দেশের চাবি আপনার হাতে এ স্লোগানে গ্রামে গ্রামে মাইকিং, ভিডিও প্রচার জুম্মা মসজিদে নামাজের পরে মুসল্লিদের গণভোটের সম্পর্কে জানানোর হ্যান্ডবিল বিলি স্থানীয় সাংবাদিক ও সুসিল সমাজের ব্যাক্তিদের সাথে মত বিনিময় ও গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানানভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে গ্রামের সাধারণ নারী-পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রচারণায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারে সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও সদস্য ও পৌরসভার প্রশাসকের পক্ষে পৌর কর্মচারীগণ প্রতি ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠকসহ সাধারণ ভোটারদের গণভোটের হ্যাঁ, না সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন।
সম্প্রতি দেখা গেছে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলার একেবারে প্রত্যান্তঞ্চল পাঁচন্দর স্কুলপাড়া গ্রাম। শনিবার বিকালে সে গ্রামে এক বাড়ি ওঠানে মুন্ডুমালা পৌরসভার এক কর্মচারী গ্রাামের একেবারে সাধারণ নারী-পুরুষ ৩৫ থেকে ৪০ ভোটার নিয়ে উঠান বৈঠক করছেন। সেখানে হ্যাঁ, না গণভোটের ভাল মন্দ নিয়ে কথা বলছেন।
উপস্থিত ছিলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা আলতাদ আলী, বদিউজ্জামান, মার্জিনা বেগম, জুলেখা বেগম ও সাবেরা বিবিসহ আরো অনেকেই।
তারা সবাই জানিয়েছেন, গণভোট দিয়ে কি হবে সে সম্পর্কে কিছুই জানতেনা। তবে এ উঠান বৈঠকে এসে বুঝলেন। তাই এখন তারা সবাই না নয়, হ্যাঁ পক্ষে ভোট দিবেন বলে জানান তারা।
এমন উঠান বৈঠক শুধু তানোর উপজেলার প্রত্যান্তঞ্চল পাঁচন্দর গ্রামেই নয়, বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলার গোদাগাড়ী চারঘাট পুঠিয়া বাগমারা দুর্গাপুর মোহনপুর উপজেলায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাটোর নওগাসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলের আনাছে কানাছে চলছে গণভোটের প্রচারণা।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সরকারের নির্দেশনা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রতিটি গ্রামে নানান কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অভিহিত করা হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে হ্যাঁ পক্ষে বেশি জনমত তৈরি হচ্ছে।
তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও মুন্ডুমালা পৌর প্রশাসক শিব শংকর বসাক বলেন, সরকারে নির্দেশক্রমে ব্যাপক প্রচারণা করা হচ্ছে। গণভোট কি এটি গ্রামের মানুষ জানেনা। তাই পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে পাড়া মহল্লাতেই উঠান বৈঠক মসজিদে প্রচারণা ভিডিও প্রচার স্থানীয় সংবাদ কর্মী সুসিল সমাজের ব্যাক্তিদের সাথে হ্যাঁ পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, সরকারে নির্দেশক্রমে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোকে প্রথম ১০ দিনের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। তারা নিয়ম মত প্রতিদিন একে কর্মসুচি পালন করছেন। এতে গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পজেটিভ ধারণা তৈরি হচ্ছে। আগে মানুষ জানতো না গণভোট সম্পর্কে। এখন আমি প্রত্যান্তঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে গণভোট সর্ম্পকে জানতে চাইলে তারা হ্যাঁ ভোট দিবেন বলে জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের আওয়াজ উঠেছে।