বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
পুঠিয়া প্রতিনিধি: পুঠিয়ায় চা দোকানির ছেলের মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ শিরোনামে দৈনিক সানশাইনে একটি মানবিক স্টোরি প্রকাশ হয়। মুহূর্তে সে স্টোরি দেখেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। স্টোরিটি নেট দুনিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে। তারপর নানান শ্রেণি পেশার মানুষ ওই পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া মোহনপুর গ্রামের চা দোকানি আব্দুল আজিজের ছেলে, ইমন আলী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে না পারা ও বইপত্র, আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে না পারার খবরটি দৈনিক সানশাইন পত্রিকায় প্রকাশের পর, বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় পুঠিয়া-দুর্গাপুর থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের।
পরে তিনি তার ছেলে ব্যারিস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক রাজনের সাথে আলোচনা করে ইমন আলীর ভর্তি ও পড়াশোনার বিষয়ে সার্বিক দায়দায়িত্ব নিয়েছেন।
এরপর ব্যারিস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক রাজন মানবিক কারণে তার একটি প্রতিনিধি দল এসে ছাত্র জীবনে পড়াশোনার শেষ সময় পর্যন্ত পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে যান। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সার্বিকভাবে সহায়তা করার আশ্বাসও দেন ব্যারিস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক রাজন।
পড়াশোনা বন্ধ হবে না, ভর্তি হতে পারবেন, বই-খাতার অভাব হবে না এমন আশ্বাসের পর খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ওই পরিবারটির সবাই। তাছাড়াও এলাকাবাসী অনেক খুশি।
এমন খুশির সংবাদ শুনে, মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী ইমন আলীর পিতা, চা বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ছেলের পড়াশুনা নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। ভেবেছিলাম এত টাকা জোগাড় করবো কিভাবে। পড়াশুনা না জানি বন্ধ হয়ে যায় কিনা। আমি অনেক খুশি আমার পরিবারের সবাই অনেক খুশি। আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুক।
পড়াশোনা করতে আর বাধা থাকলো না জেনে মেধারী শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আমার পিতাকে দোকানের কাজে সহায়তা করে এসেছি, এখন টাকার জন্য পড়াশোনা বন্ধ হলে আমার খুব কষ্ট লাগতো। অনেক চিন্তা আর টেনশনও ছিলাম। এখন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল এবং উনার ছেলে ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন আঙ্কেল আমার দায়-দায়িত্ব নিয়েছে একথা জেনে আমি অনেক খুশি। বড় হয়ে আমিও হতে চাই একজন মানবিক ডাক্তার। কাজ করব মানবতার জন্য।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক রাজন বলেন, টাকা পয়সা অথবা দারিদ্রতার কারণে কোন মেধাবীকে ঝরে যেতে দেওয়া যায় না। বিষয়টি খুবই মানবিক, তাই ছেলেটির দায়-দায়িত্ব আমরা নিয়েছি; পড়াশোনার শেষঅবধি আমরা পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও অতীতে বহু মানুষের পাশে থেকেছি শুধু মানবিক কারণে। এভাবেই আমরা গড়তে চাই মানবিক একটি সমাজ, তথা দেশ।