বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: সকল অপশক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ধানের শীষের পক্ষে এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ধানের শীষের পক্ষে সবাই এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। এটাই হলো বিএনপি। শত নির্যাতন, জেল, জুলম, খুন ও গুমের মধ্যেও বিএনপি কখনো তার দাবী থেকে পিছুপা হয়নি বলে সোমবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনায় কাটাখালী পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে মাসকাটাদিঘি স্কুল মাঠে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। তিনি হচ্ছেন মাদার অব ডেমোক্রেসি ও আপোসহীন দেশনেত্রী। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের মা। সেই নেত্রীকে পতিত সরকারের আমলে খুনি ও স্বৈরাচার হাসিনা ষড়যন্ত্রমুলক মামলায়, কাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে ফরমায়েশী রায়ে সাজা প্রদান করেছিলো। একটি নির্জন কারাগারের স্যাঁতসেঁতে ঘরে তাঁকে রাখা হয়েছিলেন। সোয়া ছয় বছল সেখানে থাকাকালীন সময়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ারমত ত্যাগ স্বীকার আর কেউ করেননি। তিনি দেশের জন্য স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন। এক এখন সন্তান আছেন, তিনি এখনো তাঁর পাশে নাই। তিনি হারিয়েছেন তাঁর নিজ বাড়ী। স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা বাড়ি থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করেছিলো। সেদিন তিনি বলেছিলেন তাঁর সাথে আল্লাহ আছেন। তিনি দেখবেন। আজ সেই খুনি হাসিনা শুধু বাড়ি নয়। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মিলন। সেই অসুস্থতাই আজ তার প্রাণের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি গত নভেম্বর মাসের ২২ তারিখ থেকে আজ একমাস যাবৎ এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এখন তিনি সিসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দেশী বিদেশী চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসা করছেন বলে জানান মিলন।
মিলন আরো বলেন, তারুন্যের অহংকার তারেক রহমান অচলতি মাসের ২৫ তারিখ দেশে ফিরবেন। তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। তিনি যেন দেশে আসতে না পারেন সেজন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগে আছে। কোন বাধাই তারেক রহমানের দেশে ফেরা আটকাতে পারবেনা। আজকে কাটাখালীবাসী যেভাবে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ২৫তারিখেও সেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঢাকায় যেয়ে তারেক রহমানকে দেখিয়ে দেবেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ধানের শীষের ঘাটি। ধানের শীষের কোন একজন ব্যক্তিকেও স্বৈরাচার হাসিনা টলাতে পরেনি। শেষে তিনি ধানের শীষের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সব শেষে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য কোরআন থেকে তেয়াওয়াত, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও যারা অসুস্থ এবং মারা গেছেন তাদের জন্যও দোয়া করা হয়।
এদিকে দোয়া মাহফিলের জন্য মাসকাটাদিঘি স্কুল মাঠের তৃতীয়াংশ মাঠ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। উপস্থিত সকলেই ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন এবং ভোট দেয়ার অঙ্গিকার করেন। নারী-পুরুষ প্রায় সমান সংখ্যক উপস্থিত ছিলেন।