সর্বশেষ সংবাদ :

চারঘাটে আশঙ্কা জনকভাবে বেড়েছে স্ক্যাবিস, চুলকানী : হাসপাতালে মাসে ৬০০ রোগি ভিড় সামলাতে হিমশিম

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে আশঙ্কা জনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে স্ক্যাবিস বা খোসপাচড়া রোগ। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরণের মাদ্রসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের মেসে ছোঁয়াচে এই রোগে ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছে স্ক্যাবিসের চিকিৎসা নিতে রোগিরা। স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক এসব রোগে আক্রাস্ত রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসা দিতে রিতিমত হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিলটন কুমার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে সব পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশী, বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে স্ক্যাবিস সংক্রমণ ব্যাপক সংখ্যায় বেড়েছে। হাসপাতালে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ জন রোগী হাসপাতালে আসছেন স্ক্যাবিসের সমস্যা নিয়ে। যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৬০০ রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে অনেক রোগী দাবি করছেন, করোনার টিকা গ্রহণের পর থেকে অনেকের শরীরে চুলকানী, এক ধরণের চর্মরোগ, ঘা, পচড়াসহ বিভিন্ন ধরণের রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ সমস্যায় ভালো মানের ওষুধ খেয়েও কোন ধরণের কাজ হচ্ছে না। তবে স্ক্যাবিস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে করোনার টিকার প্রতিকূল প্রভাব রয়েছে কি না সেটি দেখার দাবি করেন রোগীরা।
মঙ্গলবার স্ক্যাবিসে আক্রান্ত জান্নাতুন মাওয়া নামের এক রোগী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার শরীরে অল্প সংখ্যক লালচে ধরণের গোটা দেখা যায়। গ্রামীন চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খেলেও কোন উপকার হয়নি। পরে হাসপাতালে এসে জানতে পারি এটি স্ক্যাবিস। আমার মত অনেকের শরীরে এই রোগ বাসা বেধেছে। করোনার টিকার দেবার পরে এটি দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ইঊসুফপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন স্ক্যাবিসের কারণে সারাক্ষণ শরীর চুলকায়। আমাদের পরিবারের চারজনই স্ক্যাবিসে আক্রান্ত। স্ক্যাবিস খুবই অস্বস্তিকর একটি চর্মরোগ। সারাক্ষণ শরীর চুলকায়। চুলকাতে চুলকাতে রক্ত বেরিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মিলটন কুমার বলেন, স্ক্যাবিস বা খোসপাচড়া রোগ ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। স্ক্যাবিসে আক্রান্ত শিশুরাও আসছে বর্হিবিভাগে। যদিও শিশু আক্রান্তের সংখ্যাটা কম। পরিবারের কেউ একজন স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হলে সাধারণ চুলকানি বলে চিকিৎসা নেন না। ফলে ততদিনে পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। অনেকেই ওষুধের কোর্স কমপ্লিট না করার কারণে আবার আক্রান্ত হচ্ছেন। অসচেতনতার কারণে স্ক্যাবিস নিরাময়ের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।


প্রকাশিত: December 4, 2025 | সময়: 7:36 am | সুমন শেখ