বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন নবগঙ্গা এলাকার পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষে প্রায় ২৫০ বিঘা পলিমাটির চরের জমিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়েছেন পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাবর আলী। তরমুজের পাশাপাশি জমির কিছু অংশে পেঁয়াজসহ আরও কয়েকটি কৃষিপণ্য আবাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মাটি প্রস্তুতের কাজ শেষে করা হচ্ছে বীজ বপন।
তরমুজ চাষের উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিককে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে ধরা হয়। বাবর আলী এবার আগাম জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। তার লক্ষ্য রাজশাহীর মানুষকে কম টাকায় রমজান মাসে রসালো এই ফল খাওয়াতে পারেন। তরমুজের এই বীজ নিয়ে আসা হয়েছে ভারত থেকে।
রাজশাহী অঞ্চলে তরমুজ চাষের এই প্রথম উদ্যোগটি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। ভাল ফলন হলে অনেক কৃষক এতে উদ্বুদ্ধ হবেন, আর রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতিতেও যুক্ত হবে নতুন সাফল্যের অধ্যায়।
বাবর আলী বলেন, আমরা চাই রাজশাহীর মানুষ যেন দক্ষিণাঞ্চল থেকে উচ্চমূল্যে তরমুজ আমদানি না করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরমুজই পায়। এবার ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও কয়েক হাজার বিঘায় তরমুজ চাষের পরিকল্পনা আছে।
তিনি বলেন, আমার এই প্রজেক্টটা বিশাল। স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে এখানকার জমি লিজ নিয়ে আমরা তরমুজ চাষ করছি। ২৫০ বিঘার মধ্যে শুধু ২০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করা হবে। বাকি জমিতে শশা ও পেঁয়াজ চাষ করা হবে। এছাড়াও মরুভূমির ফল সাম্মাম চাষও করা হবে। কিন্তু উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। তারা সহায়তা করলে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।
এই উদ্যোক্তা বলেন, আমার এখানে ১০০ থেকে দেড়শ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যে জমিতে প্রায় ৫০ জন কাজ করছেন। যারা এসেছেন খুলনা থেকে। ভবিষতে রাজশাহীর মানুষকে সংযুক্ত করা হবে। তারা জমি তৈরি করেছে এখন বীজ বপন করছে। এরপর চলবে পরিচর্যা। আশা করা যায় শীতের মধ্যে তরমুজ পাওয়া যাবে।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী তরমুজ উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও উত্তরাঞ্চলে এ চাষ তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে এবার রাজশাহীর পদ্মার চরে তরমুজের চাষ শুরু হওয়ায় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
পবা উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, সাধারণ হিসাবে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। সে হিসেবে ২৫০ বিঘা জমিতে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার ০০০ মণ তরমুজ উৎপাদন হতে পারে। তবে জাত, মাটির উর্বরতা ও পরিচর্যার ওপর ফলন নির্ভর করে। মাটির পিএইচ মান ৬ থেকে ৭ দশমিক ৫ এর মধ্যে থাকলে তরমুজ ভালো জন্মে, বিশেষ করে ৭ হলে তা সবচেয়ে উপযোগী।