, , ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
ডিপ্রেশন, পরিবারের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাব, পড়াশোনার উদ্বেগ এবং মানসিক অশান্তি এসব সমস্যা আজকের তরুণদের জীবনে এক বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজশাহীর মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মন সংলাপ কতৃর্ক আয়োজিত মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মশালা। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও পরীক্ষাজনিত উদ্বেগ মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত খুলছে এই উদ্যোগ।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মাদ্রাসায় সহশিক্ষা কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম হয় বা গতানুগতিক পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্যান্য কার্যক্রমে যুক্ত হবার সুযোগ কম থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজশাহীর অন্যতম নামকরা মাদ্রাসায় এই কর্মশালা আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
“মন সংলাপ” একটি যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক উদ্যোগ, যা সহানুভূতি, মনোবৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা এবং ইতিবাচক যোগাযোগের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। পাশাপাশি, উদ্যোগটি গুড প্যারেন্টিং বা সুসম্পর্কপূর্ণ অভিভাবকত্ব গড়ে তুলতেও কাজ করছে, যাতে অভিভাবক ও সন্তানদের মধ্যে বোঝাপড়া ও মানসিক সহায়তা বৃদ্ধি পায়।
এই প্রকল্পটি “সাইকোচ সামার চ্যালেঞ্জ ২০২৫” এর ফাইনালিস্ট উদ্যোগগুলোর একটি। এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে সাইকোচ বাংলাদেশ, ব্র্যাক, ব্র্যাক আই আই ডি, আঁচল ফাউন্ডেশন ও চ্যাম এর সহায়তায়। প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন সিফাত শাহারিয়ার কিয়াম, এবং টিমে রয়েছেন রোকেয়া হক রিমু, ইরফান আহমেদ সোহান, উম্মে আনান মিতু ও কাজী নাইমা আক্তার।
বৃহস্পতিবার কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার কাশফিয়া বলেন, “এই সেশনের মাধ্যমে আমরা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং নিজের আবেগ সঠিকভাবে প্রকাশ করার উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছি। পরীক্ষার আগে এমন একটি কার্যক্রম আমাদের জন্য খুবই দরকারী ছিল। ভবিষ্যতে এমন কর্মশালা আরও হলে ভালো হয়”।
মন সংলাপের টিম লিড সিফাত শাহারিয়ার কিয়াম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি মানসিক স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয় বরং এটি জীবনের অপরিহার্য অংশ। আমাদের লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য ও গুড প্যারেন্টিং নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। ভবিষ্যতে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা করছি”।
কর্মশালা শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলবে। এটি ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সানশাইন /শামি