, , ।
মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাটের মোট ৫টি উপজেলায় মাত্র দুটি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-২ আসন। জয়পুরহাট-২ জাতীয় সংসদের ৩৫ নং আসন।
এ আসনে গত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৭০ জন। এ আসনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৮ জন আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজরা ভোটার মাত্র ১ জন। তবে সর্বশেষ চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় এ আসনের ভোটার সংখ্যা বাড়ার আশা সংশ্লিষ্টদের।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে জামায়াতের একক পার্থী ঘোষণা হলেও বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় সহ নির্বাচনী এলাকায় সমানতালে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রার্থীরা দলের তৃণমুল পর্যায়ে সভা সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, শোডাউন ও গণসংযোগ করে তাদের নিজ অবস্থান শক্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। উভয় দলের প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ সহ শোডাউন করে যাচ্ছেন, যা চোখে পড়ার মতো।
জানা গেছে, জয়পুরহাটের দুটি আসনই বিএনপির বেশ শক্ত ঘাটি হিসেবেই পরিচিত। প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জেলার দুটি আসন থেকে বরাবরই বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এমনকি বিগত ২০০৯ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ জেলার দুটি আসনেই নিজেদের জয়লাভ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। বড় দল হিসেবে পরিচিত বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় মাঠে এখন পর্যন্ত মোট ৬ জন প্রার্থী দেখা গেলেও তাঁদের মধ্যে ৩ জনই রয়েছেন বেশ শক্ত ও সক্রিয় ভাবে। তাঁরা প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার তৃণমুলে দলীয় প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ, ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ সহ সভা-সমাবেশ করে ধানের শীষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।
অপরদিকে জামায়াতের দলীয় একক প্রার্থী রাশেদুল আলম সবুজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক ভাবে সভা সেমিনার, গণসংযোগ করে ভোট চাচ্ছেন দাড়ি পাল্লায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে লড়বেন রাশেদুল আলম সবুজ। তিনি বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সহ সেক্রেটারি ছাড়াও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে জামায়াত জয়লাভে আশাবাদী বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া এ আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থী কিংবা কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীরও নাম শোনা যায়নি।
আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সাবেক ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল বারী, কেন্দ্রীয় নেতা লায়ন সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা আব্বাস আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্র নেতা নুর মোহাম্মদ রুবেল।
বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তাঁরা নির্বাচনী এলাকার উল্লেখযোগ্য জনসমাগমপুর্ণ ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে ব্যানার, পোস্টার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ সহ বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক, সমাবেশ, পথসভা মটরসাইকেল শোডাউন ছাড়াও ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন।