বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইমাম হোসেন, ডিজিটাল:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গাঁওপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাছের আড়তে, অন্যের মাছ বাজারজাত করনের কাজ করে ছেলেকে বানিয়েছেন বিসিএস ক্যাডার। মাছের আড়তে কাজ করা আব্দুস সাত্তারের বাড়ি উপজেলার পুরাতন গাঁওপাড়া গ্রামে। তার ছেলের নাম মোঃ শাহরিয়ার হোসেন। তিনি বর্তমানে নড়াইল জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও শাহরিয়ার হোসেন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকার সাভারে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। শাহরিয়ার হোসেনের এই সাফল্যে, তার এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা অনেক খুশি।
গত ৪৩ বিসিএস পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশে ২৩২ তম হয়ে সাফল্যের সহিত উত্তীর্ণ হয়ে এখন স্বপ্ন পূরণ করতে চান নিজের পিতা ও পরিবারের। উজ্জ্বল করতে চান এলাকাবাসীর মুখ, কাজ করতে চান দেশ ও মানুষের জন্য।
এ বিষয়ে শাহরিয়ার হোসেনের পিতা আব্দুস সাত্তার তিনি বলেন, আমি পুঠিয়ার আমিনুল ইসলাম মন্ডলের মাছের আড়তে ৩৫ বছর ধরে কাজ করে খুব কষ্ট করে আমার ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। আমি চাই আমার ছেলে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করুক।
শাহরিয়ার এর মা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, আমার ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে আমরা খুব খুশি। খুব কষ্ট করে মাসে ১ হাজার, ২ হাজার, করে টাকা দিতাম সেই টাকা দিয়ে কষ্ট করে সে পড়াশোনা করেছে সে। আমার ছেলের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।
এ বিষয়ে গাঁওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবাইয়া সুলতানা বলেন, একজন ছাত্র সফলতা অর্জন করলে শিক্ষক সমাজের কি যে আনন্দ হয় তা আর বোঝানোর ভাষা থাকে না। শাহরিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে এই কথা শুনে অনেক আনন্দিত হয়েছি, আবেগাপ্লুত হয়েছি। দোয়া করি সে যেন আরো সফলতা অর্জন করে।
এ বিষয়ে শাহরিয়ারের শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা তিনি বলেন, পরের বাচ্চাদেরকে পড়াশুনা করে তারা সফলতা অর্জন করলে, শিক্ষক হিসেবে আমাদের খুবই ভালো লাগে। দোয়া করি সে যেন আরো অনেক বড় কিছু হয়।