গুলির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে ঈশ্বরদীর পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রতিনিয়ত গুলির শব্দে ঘুম ভাংছে পদ্মা নদী পাড়ের মানুষের। পদ্মা নদীর বালু উত্তোলন ও খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই ফিল্মি স্টাইলে ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মূহুরমহুর গুলির শব্দে পদ্মা পাড়ের মানুষেরা আতংকিত হয়ে পড়েন। এর আগে সোমবার একই কারণে পদ্মা নদীর সাঁড়া ৫নং ঘাটের ক্যানাল পাড়ায় ব্যাপক গুলি বর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় দুই বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হয় এবং অসংখ্য ঘর-বাড়ির টিনের বেড়া ঝাজরা হয়ে যায়।
ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর সাঁড়া ঘাট ও ইসলাম পাড়া ঘাট এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা এবং খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে গত ৬ মাসে প্রায় অর্ধশত দিন গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, গত ৬ মাসের বেশিরভাগ দিনই তাদের ঘুম ভাঙ্গে গুলির শব্দে। এ কারণে প্রতিদিনই এক অজানা আতংকে দিনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।
বিশেষ করে বালু উত্তোলন, বালু ব্যাবসা ও খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে গুলি বর্ষণের এমন ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তারা। সবশেষ সোমবার সকালে পদ্মা নদীতে প্রচন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনায় তাদের ঘুম ভেঙেছে।
তারা আরও জানান, প্রচন্ড গুলির কারণে পদ্মা নদী পাড়ের মানুষেরা তাদের ঘর-বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে লুকিয়ে থাকে। সকাল সাড়ে আটটা থেকে প্রায় সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করে বালু দস্যুরা। বন্দুক থেকে ছোড়া গুলিতে এলাকাবাসীর কেউ আহত না হলেও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আছের আলী নামের এক বৃদ্ধা জানান, নদীতে বালু উত্তোলন, ব্যবসা ও খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে মাঝেমধ্যেই বন্ধুক যুদ্ধ হয়। এসব গোলাগুলিতে প্রায়শই অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়। কোনটা প্রকাশ পায়, কোনটা পায় না। গত সপ্তাহে সোমবার) গোলাগুলিতে নদীপাড়ের দু’জন নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। আজকেও একই ঘটনায় আমরা চরম আতংকের মধ্যে আছি।
নৌপুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত স্পিরিট বোট ও নৌকা থেকে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। তারা স্পিডবোর্ড ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সশস্ত্র অবস্থায় পদ্মা নদীর সাঁড়াঘাট ও ইসলামপাড়া এলাকায় মহড়া দেয়। এসময় গ্রামবাসীর দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে আতংক সৃষ্টি করে।
এর আগে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে নদীর পাড়ের বেশকিছু বাড়ি টিনের চাল এবং বেড়া ফুটো হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে নৌ পুলিশের নির্লিপ্ততা এবং তাদের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পদ্মা নদীতে যখন-তখন গুলিবর্ষণ, উভয়পক্ষের গোলাগুলি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয় ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পদ্মানদী এলাকায় সোমবার সকালে একটি পক্ষ গুলি ছুড়েছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.স.ম আব্দুন নূর বলেন, নদীতে গুলি বর্ষণের ঘটনাটি দ্বায়িত্ব পালন করবে নৌ পুলিশ। তারপরও নদী পাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পদ্মা নদীতে মাঝে-মধ্যেই গুলি বর্ষণের ঘটনায় পুলিশ চরম ভাবে বিব্রত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২৫ | সময়: ৭:১০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর