বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী গৌরাঙ্গবাড়ি খেতুরীধামে ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী মহোৎসব পরিদর্শন করলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অবঃ) শরীফ উদ্দিন। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার সময় তিনি খেতুরী ধাম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে শরীফ উদ্দিন গৌরাঙ্গদেব ট্রাষ্ট বোর্ডের ট্রাষ্টিদের ও অগত ভক্তদের সাথে মত বিনিময় করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খেতুরী ধামে আগত ভক্তদের কোন অসুবিধা, সুযোগে সুবিধা ও নিরাপত্তাসহ সকল বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
মেজর জেনারেল (অব:) শরীফ উদ্দিন বলেন, নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি মহোৎসব কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, সম্প্রীতির বন্ধন, এখানে শুধু হিন্দুরাই আসে না, আসে মুসিলম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই। আমরা সবাই বাংলাদেশী। এখানে আসলে বুঝা যায় আমরা সকলেই সম্প্রীতির বন্ধনে বাংলাদেশী।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গবাড়ি (শ্রীপাট খেতুরীধামে) নেমেছে ভক্তদের ঢল।
শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপি এই মহোৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান হয়। শনিবার অরুনোদয় থেকে অষ্টপ্রহরব্যাপী চলেছে তারকব্রহ্ম নাম সংকীর্ত্তন। রবিবার প্রভুর ভোগ মহোৎসব, দধিমঙ্গল ও মহান্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিরোভাব তিথি মহোৎসব।
ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনি শক্ত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও সেচ্ছাসেবকরা সবসময় নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব পালন করছে। শ্রীপাট খেতুরীধাম এলাকায় ১২ টি সিসিক্যামেরা স্থাপন করা আছে।
এছাড়াও বক্তদের জন্য ১০০টি স্থায়ি টয়লেট ও ১০০ টি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, পনির জন্য ১০ টি সাব মার্সিবল পাম্প ও ১ গভীর নলকুপ বসানো আছে। ভক্তদের জন্য সকল সেবার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
চার শতাব্দি পুরোনো এই নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি মহোৎসব এখন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।