বাঘায় ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবদ্ধন করলে মিলছে আকর্ষণীয় পুরস্কার

নুরুজ্জামান,বাঘা :

একজন শিশু জন্ম গ্রহন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবদ্ধন এবং কোন মানুষ মারা যাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু সনদ পাওয়াটা পরিবারের অধিকার। ১৯৯০ সালে যেমন শিশু অধিকার আইন পাশ করা হয়েছে। অনুরুপ ২০০৪ সালে জাতীয় সাংসদে ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার আইন প্রনয়ন করা হয়েছে । এ দিক থেকে রাজশাহীর বাঘায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে মিলছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

সরেজমিন লক্ষ্য করা গেছে, সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩ টায় রাজশাহীর বাঘা পৌরসভায় ৪৫ দিনের মধ্যে নবজাতকের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করায় ৫ জন অভিভাবকের হাতে বিশেষ উপহার তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শাম্মী আক্তার। একই সাথে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন এখন থেকে সে সকল মা-বাবা তাদের সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম সনদ গ্রহন করবেন , তাদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হবে মান সম্মত পুরস্কার ।

এই পুরস্কার বিতরণের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় নির্বাহী অফিসার বলেন, এমন একটি সময় গেছে, যখন বাল্য বিয়ে দেয়া, কিংবা প্রথমবার ভালো স্কুল ভর্তি হতে না পারার কারণে কিছু বাবা-মা তাদের সন্তানদের জন্ম নিবন্ধনে বয়স কম-বেশী করেছেন। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা নেয়া থেকে শুরু করে সরকারের সকল দপ্তরে উপকার নিতে আসা সুবিধা ভুগিদের কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধন চাওয়া হবে।

তিনি জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব আরোপ করে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা চাইলে এলাকা ব্যাপী মাইকিং কিংবা ওয়ার্ড ভিত্তিক সকল মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে এ বিষয়ে লিফলেট পড়ে শোনানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। তাহলে এখন যে পরিমান মানুষ জন্ম নিবন্ধন করছে, তার চেয়ে অনেক বিশি মানুষ জন্ম নিবন্ধন করবেন।

এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একজন মুখপাত্র বলেন, জন্ম নিবন্ধন সরকারের জাতীয় নীতিমালা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই সেবা গ্রহণের সুযোগ ও গ্রহীতার সংখ্যা নিবন্ধন ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেকটায় পিছিয়ে রয়েছে। এক সমিক্ষায় দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৪০ শতাংশ জন্ম নিবন্ধন হয়েছে। যার মানে দাঁড়ায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় এক কোটি শিশু সরকারি হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে। এর ফলে বিভিন্ন সভা সেমিনারের মাধ্যমে এই জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সভা-সেমিনার করা হচ্ছে।

বাঘা উপজেলা নির্বাচন অফিসার শ্রী দোলন কান্তি চক্রবর্তী বলেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশু শ্রম আর বাল্য বিয়ে থেকে শিশুদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরীর ক্ষেত্রে অনেক ভুল-ভাল ধরা পড়ে। এ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়া এবং বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানীর স্বীকার হন। এ ছাড়াও শিশু অপরাধীরা জন্ম সনদ ছাড়া শিশু হিসেবে আইনি সুবিধা পাই না। তাঁর মতে, এ সেবাটির ব্যাপারে নারী ও কিশোরী মা দের সচেতন করা জরুলী। তা-না হলে শিশুর আইনি সুরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তিনি আরো বলেন, জন্ম নথির বদৌলতে বাল্য বিয়ে, নারী ও শিশু পাচার এবং শিশু শ্রম থেকে বাচ্চাদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। জন্ম সনদের পরিধি পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেকটায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত হলে কর্তৃপক্ষ যুদ্ধের মতো সহিংস পরিস্থিতি কিংবা অভিবাসনের সময় শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তিনি জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পুরস্কার দেয়ার ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নুরুজ্জামান/শামি


প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৫ | সময়: ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ | Daily Sunshine